• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র মন্ত্রীত্ব এতো কঠিন জানলে আমি দায়িত্ব নিতাম না: কৃষিমন্ত্রী কুমিল্লায় তিন কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেফতার  ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক টিপুর্দি দুর্ঘটনা নিহত ২ “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্ধোধন: তারেক রহমান বুড়িচংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর উপলক্ষে মতবিনিময় সভা কালিরবাজার ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা ০৮ কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী ছকিনা বেগম গ্রেফতার ‘আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার বিল দিতে হবে না’ পানিতে নিজের ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে জমিতেই কৃষকের মৃত্যু

‘নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’

অনলাইন ডেস্ক / / ৯৭ Time View
Update : বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫

শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনামলে দমন এবং পীড়নের অস্ত্র হিসেবে নির্যাতন করা হতো। রাজনৈতিক বিরোধী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর এসব বর্বরতা চালানো হতো। অন্তর্বর্তী সরকার নির্যাতনের এই সংস্কৃতি বন্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বুধবার (২৫ জুন) জাতিসংঘ ঘোষিত নির্যাতিতদের সহমর্মিতা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, শেখ হাসিনার আমলে আইনের অপব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি, গ্রেফতার আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি রাজনীতিকে বিকৃত এবং সমাজের একটি অংশকে বিষাক্ত করে তুলেছে। নির্যাতন ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন মানব মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননা। কোনও ন্যায়ভিত্তিক সমাজে এটি স্থান পেতে পারে না এবং সহ্য করা যায় না। আমরা বাংলাদেশের সেই হাজারো নির্যাতিত মানুষ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্যাতিতদের সাহস ও সহনশীলতাকে সম্মান করি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের তিনটি মূল ম্যান্ডেট রয়েছে। তা হলো, পূর্ববর্তী শাসনামলে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্তদের বিচারের আওতায় আনা, কাঠামোগত সংস্কার এবং নির্বাচন। একটি নিরাপদ, মর্যাদাসম্পন্ন ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত দেশ গড়তেই এই তিন লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। সরকার গঠনের পর থেকেই নির্যাতনের এই ধারা মোকাবিলা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র নির্মাণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে ‘গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সনদে’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বা রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ বাহিনীর দ্বারা কোনও ব্যক্তিকে গুম করা বা আটকের পর অস্বীকার করার মতো অপরাধ সহ্য না করার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সনদের স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এর মাধ্যমে আমরা জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়নের দিকে এগোচ্ছে সরকার। যা ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গুম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সরকার একটি গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এর লক্ষ্য হলো নির্যাতন, গুম এবং আটক সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করা। বিশেষত অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। এই স্বাধীন কমিশনের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করা।

পুলিশ ও বিচার বিভাগে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এই দুই বিভাগে ব্যাপক সংস্কার চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কারা প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের তদন্তের বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। হেফাজতে নেয়া ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া এসব ঘটনার বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন ও নথিভুক্তকরণ চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো প্রাথমিক হলেও এগুলো এক গভীর পরিবর্তনের সূচনা।

শেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নির্যাতন প্রতিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে। এই দিনটি হোক একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category