মানবতাবিরোধী অপরাধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় সেই জিয়াউলের বিচার শুরু
অনলাইন ডেস্ক /
/ ৪০
Time View
Update :
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
Share
শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানির শুরুতে জিয়াউলের অব্যাহতি চেয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের করা আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। অভিযোগ পাঠ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জিয়াউল আহসানের কাছে দোষ স্বীকার করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নট গিল্টি’।
এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এর আগে সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।
গত ৮ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করেন তার আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী এসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তারা ট্রাইব্যুনালের কাছে তার অব্যাহতি প্রার্থনা করেন। এর আগে ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে জিয়াউলের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এ মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খাল-সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া হয়।
এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন সকালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে।