• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
শ্রাবণের পক্ষে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তির দাবি, ভোগদখল না পাওয়ার অভিযোগ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার লিংক রোডে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নেত্রকোনায় বাজারে ফাঁকা গুলি,নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে তাঁতীদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ স্ত্রীর দেবীদ্বারে কোটি টাকার সড়কে মাটির কারসাজি! ২ মাস ধরে জেলা ও মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে অভিযোগেও নীরব প্রশাসন, লুটপাটের উৎসব দেবিদ্বারে সরকারি মূল্য অমান্য করে চড়া দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ‘বেটিং সাইটের এজেন্ট’ থেকে কোটি টাকার সম্পদ: নাজিমের ফাঁদে নিঃস্ব তরুণরা কুমিল্লায় জয়যাত্রা পরিবারের মিলনমেলা ও ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সাংবাদিকের মোবাইল জব্দ, এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ কুমিল্লায় মা ও ৮ মাসের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা, আটক যুবক

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় নিয়ে পরিবারের অসন্তোষ, আরও কঠোর শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক / / ৫৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে আংশিক সন্তুষ্টি থাকলেও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবার ও সহপাঠীরা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকেই যথাযথ শাস্তি পায়নি, ফলে এই রায় ন্যায়বিচারের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও ক্ষোভ থামেনি পরিবারের মধ্যে। আবু সাঈদের পিতা মকবুল আহমেদ স্পষ্টভাবে বলেন, শুধুমাত্র দুজনের ফাঁসির রায় যথেষ্ট নয়; ঘটনায় জড়িত আরও অনেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সরাসরি হামলায় জড়িত থেকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এড়িয়েছে।

মায়ের কণ্ঠেও ছিল একই হতাশা। মনোয়ারা বেগম বলেন, তাঁর ছেলের হত্যার পেছনে একাধিক ব্যক্তি দায়ী থাকলেও তাদের অনেকেই তুলনামূলক হালকা শাস্তি পেয়েছে, যা পরিবার মেনে নিতে পারছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও রায়ের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল তাদের অনেকেই লঘুদণ্ড পেয়েছে। তারা রায়ের পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের শাস্তি দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সশস্ত্রভাবে হামলায় অংশ নেওয়া ছাত্র লীগের নেতার বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সওকত আলী জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রায় হওয়ায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা সন্তুষ্ট। তবে পৃথক আসামিদের শাস্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের ওপরই ছেড়ে দেন।

রায়ে দুইজন—পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়—মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছে, বাকিরা পলাতক।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেইটে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। ঘটনার একটি ভিডিও দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের গতি বদলে দেয়।

মামলাটি দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, রায়ের পর নতুন করে উঠে এসেছে ন্যায়বিচারের পরিপূর্ণতা নিয়ে বিতর্ক। পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, বিচার তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন প্রকৃত সব দায়ীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category