কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানান দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি।
সোমবার (২২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে আল-কাবি, যিনি একই সঙ্গে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহীও, জানান যে রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় ৬৬ জন আহতও হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ভারত, কাতার, তানজানিয়া, পাকিস্তান, গিনি, নেপাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
আল-কাবি জানান, নিহত ১৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হলেও, এর মধ্যে ঠিক কতজন কোন দেশের, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে দূতাবাস বলেছে, ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।’
নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তার জন্য দূতাবাস দুটি হেল্পলাইন নম্বর (+974-55647502, +974-55384683) এবং ই-মেইল (cons.doha@mea.gov.in) চালু করেছে।
এর আগে ভারতীয় দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে জানায়, এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কঠিন সময়ে কাতার সরকারের পাশাপাশি দেশটির জনগণের প্রতি ভারতীয় দূতাবাস ও কাতারে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। আমরা আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছি।’
কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি পরিষেবার দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।