• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আমার হৃদয়ে ফিলিস্তিন, কোনো ভয় ছাড়াই তাদের সমর্থন করি: ম্যারাডোনা

অনলাইন ডেস্ক / ৪৬ Time View
Update : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে ইতিহাসের দায় শোধের লড়াই, যেখানে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সমান্তরালে অদৃশ্য এক ছায়া হয়ে জড়িয়ে আছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর থেকে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ আর ম্যারাডোনার নাম যেন সমার্থক হয়ে গেছে।

আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে যখন আলবিসেলেস্তেরা থ্রি লায়ন্সদের মুখোমুখি হবে, গ্যালারিতে উড্ডীন নীল-সাদা পতাকার ভাঁজে আর প্রতিটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদস্পন্দনে অবধারিতভাবেই জীবন্ত থাকবেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’।

ইংল্যান্ড ম্যাচ কেন্দ্র করেই বিশ্বকাপে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ম্যারাডোনা। একটু পেছনে ফেরা যাক। বছর পাঁচেক আগে তিনি ফুটবল ছেড়ে, পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্য ভূবনে। খেলাধুলার বাইরে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেও সমাদৃত ছিলেন ম্যারাডোনা। বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীল আন্দোলনগুলোতে সমর্থন জানাতে দ্বিতীয়বার ভাবতেন না। তার বন্ধুস্থানীয় ছিলেন ভেনেজুয়েলার হুগো শ্যাভেজ, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো এবং বলিভিয়ার ইভো মোরালেসের মতো নেতারা।

দিনটা ছিল ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর। আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বরের’ মৃত্যুর পর শোকে ছেয়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্ব। শোক নেমে এসেছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের বুকেও।

ফিলিস্তিন নিয়েও নানা সময়ে সরব ছিলেন ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুর পর শোকবার্তা এসেছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই ভূখণ্ড থেকেও। দিনটা ছিল ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর। আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরের মৃত্যুর পর শোকে ছেয়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্ব। শোক নেমে এসেছিল ফিলিস্তিনের বুকেও।

হামাসের তৎকালীন মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এক টুইটবার্তায় ম্যারাডোনার পরিবার এবং বিশ্বজুড়ে তার অগুণিত ভক্ত-সমর্থকের প্রতি শোক প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখিত, ‘ম্যারাডোনা’র মৃত্যুতে, যিনি প্যালেস্টাইনের অধিকার আদায়ের পক্ষের ছিলেন।’

বছরের পর বছর ধরে বর্বরতা চালানো দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মমতা থেমে নেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। গাজাবাসীর পাশে যে অল্প কয়েকজন তারকা ক্রীড়াবিদরা এগিয়ে এসেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ম্যারাডোনা। এমন দিনে আবারও হয়তো মনে পড়ছে ম্যারাডোনার কথা। যার হৃদয়ে ছিল ফিলিস্তিন। যিনি নিজেকে প্যালেস্টেনিয়ান পরিচয় দিতেন গর্ব করে। ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বর বলা যায় আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তীকে।

ফিলিস্তিন নিয়ে যা বলে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা
২০১২ সালে ম্যারাডোনা নিজেকে ‘প্যালেস্টাইন জনগণের সবচেয়ে বড় ভক্ত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তাদের শ্রদ্ধা করি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি। আমি কোনো ভয় ছাড়াই প্যালেস্টাইনকে সমর্থন করি।’

দুই বছর পর তথা ২০১৪ সালে গাজায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায় দখলদার ইসরায়েল। যাতে অন্তত তিন হাজার ফিলিস্তিনি মারা যায়। এ ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিলেন ম্যারাডোনা। ইসরায়েলের সমালোচনা করেন। এক বিবৃতিতে সে সময় তিনি বলছিলেন, ‘ইসরায়েল প্যালেস্টাইনদের সঙ্গে যা করছে, তা লজ্জাজনক।’

একবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে উঠে এসেছিলেন, ২০১৫ সালে এএফসি এশীয় কাপের সময় ফিলিস্তিনি জাতীয় দলকে প্রশিক্ষণ দিতে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন ম্যারাডোনা। যদিও এ দাবির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার মস্কোতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যেখানে তিনি আবারও তার দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আব্বাসকে আলিঙ্গন করে বলেন, ‘আমার হৃদয়ে, আমি প্যালেস্টাইন’ এবং সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও তার ইনস্টাগ্রাম পেজে আপলোড করা হয়।

শুধু ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, সিরিয়া নিয়েও প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে তাকে। অ্যান্টি জর্জ বুশ শার্ট পরা অবস্থায় তাকে বেশ কয়েকবার জনসম্মুখে দেখা গেছে। আমৃত্যু একজন প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন ম্যারাডোনা। যার প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর এখনো যেন বেজে চলছে।

সোর্স: আল জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category