কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১৩ নং ধামতী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ৫ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দাকে ৭ নং ওয়ার্ডে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে।
মোঃ ইয়াছিন সরকার তিনি ১৩ নং ধামতী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগ, তার অজান্তেই কে বা কারা তার ভোট ৫ নং ওয়ার্ড থেকে ৭ নং ওয়ার্ডে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ ইয়াছিন সরকার বলেন, আমি জন্মসূত্রে ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমার বাড়িঘর সব এখানেই। অথচ আমি জানতেও পারিনি কিভাবে আমার ভোট ৭ নং ওয়ার্ডে চলে গেল। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং নিজ ওয়ার্ডে ভোট দিতে চাই। আমার জনপ্রিয়তা দেখে এই চক্রান্ত করেছে। ইনশাআল্লাহ কোন চক্রান্তে আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না। আমি সকলে নিয়ে এই ওয়ার্ড কে আধুনিক ওয়ার্ড গড়বো। অভিযুক্ত চক্রান্ত কারীদের কে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, তফসিলের আগেই ভোটার নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। কিছু সম্ভাব্য প্রার্থী জেতার জন্য এই অবৈধ পথ বেছে নিয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে ধামতী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ তোফায়েল হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে ভোটার নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এটা চক্রান্ত কিভাবে করেছে আমরা তদন্ত করবো এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া আমরা কোনো ভোটার স্থানান্তরের সুপারিশ করি না। যদি কেউ জালিয়াতি করে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ভোটার স্থানান্তরের নির্দিষ্ট আইন আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে ভোটার নিলে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আমি শুনার পর তাৎক্ষনিক এবং ওই স্থানান্তর বাতিল করেছি।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, আপনার মাধ্যমে শুনেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ ভোটার স্থানান্তর বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।