• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি স্মরণে হাদল বড় বিল সৈকতে পানশী নৌকা বাইচ-২০২৬; সিজন-৪’ অনুষ্ঠিত কমলনগরে রাতের আঁধারে হাজিরহাট বাজারের মডেল মসজিদের জমি দখল- ৯৯৯-এ বলেও মিলেনি কোন প্রতিকার বুড়িচংয়ে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবা-মাকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে মাননীয় ভূমি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ: ব্রাহ্মণপাড়ায় বার বার অভিযোগেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ড্রেজার! ৩৯ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন ইসরাফিল খসরু কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা: ৭ দিনের রিমান্ডে ২ যুবক পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা সজাগ পুলিশ:কুমিল্লায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি দাউদকান্দিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত আরও ২ ব্রাহ্মণপাড়ার ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাসান ডাকাত চান্দিনা থেকে গ্রেপ্তার চান্দিনায় গৃহবধূর মৃত্যু: স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

প্রতিদিন আম খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে?

অনলাইন ডেস্ক | / ৬৯ Time View
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

গরমের মৌসুম মানেই আমের মৌ মৌ গন্ধ। কিন্তু শুধু স্বাদ নয় এই রসালো ফল শরীরের জন্যও দারুণ উপকারী। নিয়মিত আম খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে, জানলে অবাক হতে পারেন। আমে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ এবং নানা ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হৃদযন্ত্র, চোখ এবং হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

হজমশক্তি উন্নত করে ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

আমে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এতে থাকা পেকটিন নামের এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াকে খাদ্য জোগায়। এই প্রক্রিয়ায় শরীরে “শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড” তৈরি হয়, যা অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে এবং কোলন ক্যান্সার ও কিছু অন্ত্রজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের শক্তিশালী উৎস

আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা, ত্বক ও প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং ভ্রূণের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

জয়েন্ট ও হাড়ের জন্য উপকারী

আমে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। কোলাজেন হলো এমন একটি প্রোটিন, যা হাড়, ত্বক, লিগামেন্ট ও কার্টিলেজকে মজবুত রাখে। এটি জয়েন্টের ঘর্ষণ কমাতে সহায়ক তরল তৈরিতেও সাহায্য করে, ফলে চলাফেরায় স্বস্তি আসে।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে

এক কাপ আমে প্রায় ৮ শতাংশ পটাশিয়াম থাকে। এই উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের ভারসাম্য শরীরে তরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ বাড়তে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

শরীরে আয়রন শোষণ বাড়ায়

আমে থাকা ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। ফলে যারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন, তাদের জন্য আম উপকারী হতে পারে। ভিটামিন সি নন-হিম আয়রনকে এমন রূপে পরিবর্তন করে, যা শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত করে

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত আম খান তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং পটাশিয়াম গ্রহণ করেন। এছাড়া তাদের অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমে যায়। অর্থাৎ, আম স্বাস্থ্যকর মিষ্টির বিকল্প হিসেবেও কাজ করে।

আমের পুষ্টিগুণ: ১ কাপ কাটা আমে রয়েছে

সাধারণভাবে আম নিরাপদ এবং বেশিরভাগ মানুষ এটি খেতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারও কারও আমের খোসায় অ্যালার্জি হতে পারে। কাশু বাদাম বা বিষাক্ত লতাগুল্মে অ্যালার্জি থাকলে ঝুঁকি থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো, তবে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও আম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঙ্গে খেলে এটি খাওয়া যায়।

আম শুধু একটি মৌসুমি ফল নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পুষ্টি প্যাকেজ। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে আম খেলে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উপকার পায়। তবে সঠিক পরিমাণ ও সঠিক খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ইটিং ওয়েল  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category