• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি স্মরণে হাদল বড় বিল সৈকতে পানশী নৌকা বাইচ-২০২৬; সিজন-৪’ অনুষ্ঠিত কমলনগরে রাতের আঁধারে হাজিরহাট বাজারের মডেল মসজিদের জমি দখল- ৯৯৯-এ বলেও মিলেনি কোন প্রতিকার বুড়িচংয়ে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবা-মাকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে মাননীয় ভূমি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ: ব্রাহ্মণপাড়ায় বার বার অভিযোগেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ড্রেজার! ৩৯ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন ইসরাফিল খসরু কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা: ৭ দিনের রিমান্ডে ২ যুবক পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা সজাগ পুলিশ:কুমিল্লায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি দাউদকান্দিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত আরও ২ ব্রাহ্মণপাড়ার ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাসান ডাকাত চান্দিনা থেকে গ্রেপ্তার চান্দিনায় গৃহবধূর মৃত্যু: স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

নেই দুই হাত, পা দিয়ে লিখে নিলার চমক, হতে চান শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক / ৫৩ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

যেখানে অনেকেই সামান্য বাধায় থেমে যান, সেখানে জন্ম থেকেই দুই হাত ছাড়া জীবনকে জয় করেছেন নিলা খাতুন। পা-ই হয়ে উঠেছে তার লেখার হাত, আর অদম্য মনোবলই তাকে পৌঁছে দিয়েছে কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রির গৌরবময় অর্জনে। তার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প আজ অনুপ্রেরণা ছড়াচ্ছে চারদিকে।

দিনমজুর উসমান গনি ও শাহিনুর বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় নিলা জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। শুরুতে মায়ের সহায়তায় বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করলেও সময়ের সঙ্গে নিজের সব কাজ নিজেই করতে শিখেছেন। বর্তমানে পা দিয়েই লেখালেখি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন সব কাজ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন।

শুধু পড়াশোনাতেই নয়, সংসারের নানা কাজেও সমান দক্ষ নিলা। পা দিয়েই তরকারি ও মাছ কাটেন, উঠান ঝাড়ু দেন, এমনকি টিউবওয়েল চালিয়ে পানিও তোলেন।

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি রেখে গেছেন সাফল্যের ছাপ। ২০১৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৭০, ২০১৯ সালে আলিমে জিপিএ-৩.৮৬ এবং ২০২২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ২.৯২ সিজিপিএ অর্জন করেন। এরপর সিরাজগঞ্জ আহমেদ কামিল মাদরাসা থেকে কামিল প্রথম বর্ষে ২.৯৮ এবং দ্বিতীয় বর্ষে ২.৯২ সিজিপিএ অর্জনের মাধ্যমে মাস্টার্স (কামিল) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

নিলা খাতুন বলেন, শিক্ষকতা তার সবচেয়ে প্রিয় পেশা। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষক নিবন্ধন (এনটিআরসিএ) পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। একটি সরকারি চাকরি পেলে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সার্থক হবে বলে আশা তার।

নিলার মা শাহিনুর বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। নানা কষ্টের মধ্যেও সে কখনো হাল ছাড়েনি। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা, নিলা যেন একটি সরকারি চাকরির সুযোগ পায়।

অসুস্থ বাবা উসমান গনি বলেন, দিনমজুরি করে অনেক কষ্টে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তার বিশ্বাস, নিলার যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করে সরকার যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়, তাহলে তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম সফল হবে।

কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শমসের আলী বলেন, নিলা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে যে সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

জীবনের প্রতিটি প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা নিলা খাতুন এখন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করছেন। নিজের সংগ্রামের গল্পকে সফলতার গল্পে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে এবং তাদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category