• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন ও বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেবিদ্বারে এনসিপির কমিটি নিয়ে বিতর্ক: আন্দোলনের বিপক্ষে থাকা ছাত্রলীগ নেতা শুভ সিনিয়র যুগ্ম সচিব কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানোর দায়ে জরিমানা গাজায় খাদ্যসংকটে ভুগছে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি: ডাব্লিওএফপি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: রায়ের কপি পেলে ব্রিফ করবে সরকার ইউপি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নয়, পরিস্থিতি জটিল হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন: ইসি মাছউদ জাপানে চাকরির সুযোগ বাংলাদেশিদের, চুক্তি সই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দমনে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন যেভাবে করবেন এসএসসিতে দুই বোর্ডের বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

নবীনগরে দলের নাম ভাঙিয়ে সরকারি মরা খাল ও খাস জমি গিলছে আল আমিন সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩১ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও থামানো যাচ্ছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সরকারি মরা খাল ও কৃষিজমি দখলের মহোৎসব।

স্থানীয় বিতর্কিত যুবদল নেতা ও সাবেক মেম্বার আল আমিনের নেতৃত্বে মেঘনা নদী থেকে অবৈধ পথে আনা বালু দিয়ে সরকারি খাস জমি ও শতাব্দী প্রাচীন মরা খালটি ভরাট করার কাজ অবাধে চলছে।
বিগত এক মাসে জাতীয় দৈনিক যুগের কণ্ঠস্বর, জাতীয় সাপ্তাহিক ক্রাইম পেট্রোল বিডি, জাতীয় সাপ্তাহিক দেশপত্র এবং সংবাদ টিভির অনলাইন সংস্করণে সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দখলদারদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বন্ধ না থাকায় স্থানীয় জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা বিরাজ করছে।

দলের নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় তাণ্ডব:
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, যুবদল নেতা ও সাবেক মেম্বার আল আমিনের এই সিন্ডিকেটটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় তাদের অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার ও ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মাইলের পর মাইল পাইপলাইন বসিয়ে সরকারি মরা খাল ও চারপাশের কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। নষ্ট হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি, যা স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের জীবিকাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

লোকদেখানো অভিযান ও দখলদারদের চতুরতা:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকদেখানো কিছু অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত বা টাস্কফোর্স এলাকা ত্যাগ করার মাত্র তিন দিনের মাথায় পুনরায় একই স্পটে ড্রেজার ও পাইপ বসিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে সরকারি জায়গা ভরাটের কাজ শুরু করে আল আমিন সিন্ডিকেট। স্থায়ী ও কঠোর কোনো আইনগত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই চক্রটি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে।

নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার পরও নিষ্ক্রিয়তা:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু ভরাট ও মরা খাল দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে নদী রক্ষা কমিশনের হাইড্রোলজি শাখার সহকারী প্রধান (পানি প্রকৌশল) আহমাদ শামস কাদির স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক স্মারকপত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও সরকারি খাস জমি-খাল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনো তার কোনো দৃশ্যমান ও স্থায়ী বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

ভূমি মন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি:
সংবাদমাধ্যমগুলোর একের পর এক প্রতিবেদন এবং নদী রক্ষা কমিশনের দাপ্তরিক আদেশের পরও স্থানীয় প্রশাসনের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় চরম অসহায় বোধ করছেন ইব্রাহিমপুরের সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের ড্রেজার ও পাইপলাইন গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারি মরা খালটি চিরতরে দখলমুক্ত করা হোক। খালের স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ফিরিয়ে এনে জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করতে এবং এই খাস জমি রক্ষায় ভুক্তভোগী গ্রামবাসী মাননীয় ভূমি মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category