• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
চান্দিনায় গৃহবধূর মৃত্যু: স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক কুমিল্লা লাকসামে ধানক্ষেত থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কমলাপুর রেলস্টেশনে ৩০০ অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একদিনে চার অভিযান, ভারতীয় পণ্য ও মাদকসহ গ্রেপ্তার-৩ ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ বুড়িচংয়ে ফসলি জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার

কুমিল্লার দুই কিশোর গ্যাং প্রধানসহ ৪ জন কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

কুমিল্লক জেলা প্রতিনিধি / ৩২ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লায় বহুল আলোচিত কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ১০ দিনে মোট ২ হাজার ৩৫ জন সন্দেহভাজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘র’, ক্রাইম সেটআপের শীর্ষ চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—‘র’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ক্রাইম সেটআপের মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ইমরান হোসেন রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ ৯টি মামলা এবং সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক ধারায় ১০টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ নবীর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম) এর নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংবিরোধী জোরদার অভিযান চলছে। অভিযানে আটক হওয়া দুই হাজারের বেশি কিশোরকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অনেকের কাছ থেকেই লিখিত মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনি পদক্ষেপ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাগাতার সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কুমিল্লার বিভিন্ন সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্রসৈকত এলাকা কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্যাংয়ের চার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিত করা কোনো গ্যাং বা তথাকথিত গডফাদারকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। কুমিল্লা থেকে কিশোর গ্যাং কালচার পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সন্তানদের চালচলন, সামাজিক মেলামেশা ও বন্ধুসঙ্গের দিকে নজর রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে তোলপাড় ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তদন্তে নেমে উক্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত দুই কিশোরের গ্যাং কালচারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় পুরো জেলায় গত ১০ দিনে পাঁচ দফায় মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category