ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত কঠোর নৌ-অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসের কড়া হুঁশিয়ারি ও রণতরীর পাহারা উপেক্ষা করে অন্তত আটটি জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ সরাসরি ইরানের বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত বলে আন্তর্জাতিক শিপিং তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। খবর রয়টার্সের।
পাকিস্তানের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে অবরোধের প্রথম দিনেই জাহাজ চলাচলের এই চিত্র নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় দাবি করেছিল, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি। তাদের দাবি অনুযায়ী, ৬টি জাহাজকে ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে এলএসইজি এবং কেপলারের মতো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য সেন্টকমের এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের কড়াকড়ির মধ্যেও আটটি জাহাজ কৌশলগত এই জলপথ পাড়ি দিয়েছে।
অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘রিচ স্টারি’। ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহনকারী এই জাহাজটির মালিকানা একটি চীনা কোম্পানির এবং এর কর্মীরাও চীনা নাগরিক। অবরোধ শুরুর পর এটিই প্রথম জাহাজ যা সফলভাবে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করতে পেরেছে।
এছাড়া ‘পিস গালফ’ নামক পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কারও সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং এটি মূলত ইরানি পেট্রোলিয়াম উপজাত ‘নাফথা’ বহনের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘মুরলী কিষাণ’ নামক আরেকটি ট্যাঙ্কার জ্বালানি তেল নিতে ইরাকের দিকে যাওয়ার পথে সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করে।
স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আটটি জাহাজের চলাচল অত্যন্ত নগণ্য হলেও, এটি ট্রাম্পের ‘নিশ্ছিদ্র অবরোধ’ নীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর এই অনমনীয় মনোভাব ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলকে জটিল করে তুলেছে।