ইসলামে বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধনই নয়, বরং এটি মহান আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ অনুগ্রহ ও ইবাদত। বিয়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং ঈমানের পূর্ণতা ঘটে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ ( সুরা রুম, আয়াত : ২১)
পবিত্র কোরআনে এমন কিছু শক্তিশালী ও কার্যকরী দোয়া রয়েছে, যা নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা উত্তম জীবনসঙ্গী, সুন্দর পারিবারিক জীবন এবং নেক সন্তানের ব্যবস্থা করে দেন। নিচে এমন দুটি বিশেষ দোয়া তুলে ধরা হলো:
১. উত্তম জীবনসঙ্গী ও রিজিক লাভের দোয়া (মুসা আ.-এর দোয়া)
হজরত মুসা (আ.) যখন চরম বিপদগ্রস্ত, একাকী এবং আশ্রয়হীন অবস্থায় ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে এই দোয়াটি করেছিলেন। এই দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য থাকা-খাওয়া, চমৎকার কাজের সুযোগ এবং একই সাথে একজন উত্তম জীবনসঙ্গীনির (বিয়ের) ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তার মুখাপেক্ষী। (সুরা আল-কাসাস, আয়াত : ২৪)
২. চোখ জুড়ানো স্ত্রী ও নেক সন্তান লাভের দোয়া
পবিত্র কোরআনে সুরা ফুরকানে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের (ইবাদুর রহমান) বিশেষ কিছু গুণের কথা বলা হয়েছে। তাদের অন্যতম গুণ হলো—তারা সবসময় নিজেদের পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আল্লাহর কাছে এই বিশেষ দোয়াটি করেন। যারা খাঁটি ও পুণ্যবান জীবনসঙ্গী আশা করেন, তাদের জন্য এটি একটি শ্রেষ্ঠ দোয়া।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো। (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭৪)
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের পর, শেষ রাতে (তাহাজ্জুদের সময়) এবং দোয়া কবুলের অন্যান্য বিশেষ মুহূর্তগুলোতে গভীর আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের সাথে এই কোরআনি দোয়াগুলো পাঠ করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে চক্ষু শীতলকারী জীবনসঙ্গী ও নেক পরিবার দান করুন। আমিন।