তেহরানের জুমার নামাজের খতিব হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলি আকবারি ঘোষণা করেছেন যে, ইরান ঐতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি শহীদদের প্রতিশোধ নেওয়ার ও হরমুজ প্রণালীর ওপর নতুন আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। পারমাণবিক আলোচনার ইতি টানার কথাও বলেছেন তিনি।তেহরানের জুমার নামাজের খতিব শৃক্রবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে এক খুতবায় এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ইরান এমন একটি ঐতিহাসিক মোড়ে অবস্থান করছে যা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তিনি নতুন নেতার বার্তা থেকে প্রাপ্ত প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
ইরানের প্রয়াত নেতা আলী খামেনির শাহাদাতের ৬২তম দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনিকে শ্রদ্ধা জানান এবং যুদ্ধকালীন পরিবেশে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ব্যক্তিগত ক্ষতি—যার মধ্যে তার পিতা, স্ত্রীসহ অন্যদের শাহাদাত রয়েছে—তা সত্ত্বেও নতুন নেতা জ্ঞানভিত্তিক, ফিকহি ও সাহসী দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ইরানি জাতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খুতবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশে আলি আকবারি ঘোষণা করেন, পারমাণবিক ইস্যুটি এখন সমাপ্ত অধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে।’ তিনি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন আলোচনাকারী দলকে শত্রুপক্ষের অতিরিক্ত দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে ইরান দৃঢ় অবস্থান থেকে আবার আলোচনায় ফিরবে; আর যদি না হয়, তাহলে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি জবাব দেবেন।খতিব বলেন, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের যে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, তা আর আলোচনার বিষয় নয়। তিনি জানান, ইরান ও তার অংশীদার ওমান মিলে এই জলপথ পরিচালনার জন্য একটি নতুন আইনগত কাঠামো প্রণয়ন করছে।
আলি আকবারি শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জেনারেল কাসেম সোলাইমানির প্রতিশোধ এখনও বাকি রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শত্রুপক্ষকে ইরানি জাতির ওপর আরোপিত ক্ষতির জন্য পূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
খুতবার একটি বড় অংশ জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা তিনি একটি চূড়ান্ত ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।