কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা সিদ্দিকা নিখোঁজের ঘটনার মর্মান্তিক রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। দুই শিশুর খেলার ছলে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়েই আয়েশাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০) ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগমকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল আয়েশা সিদ্দিকা আসামিদের বাড়িতে তাদের সমবয়সী সন্তানের সঙ্গে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে রাশেদুলের সন্তানের আঘাতে আয়েশার চোখে মারাত্মক জখম হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে রাশেদুল ও তার স্ত্রী আয়েশাকে একটি ড্রামের ভেতর মুখ চেপে আটকে রাখেন। সেখানেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে মরদেহটি পাশের একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে মাচাবান্দা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে কুড়িগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের সামনেও তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল সকালে মাচাবান্দা শাহাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে আয়েশা আক্তার খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ।