শিক্ষার্থীদের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বর্তমান দেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলের দাবিতে গাজীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন সন্ত্রাস মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল কমিটির সদস্য মুফতি হুসাইন আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রায় ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পড়েন। তবে এটাই প্রথম নয়, বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের জন্য জীবন ও রক্ত দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদের জীবন ও রক্তের পরিবর্তন ঘটলেও দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। কারণ দেশ বদলের কারণে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা তাদের প্রত্যাশা পূরণে বেশি উদগ্রীব ছিলেন। তারপরও জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।
আর এই গণঅভ্যুত্থান তারই ধারাবাহিকতার ফসল। তাই এই বিপ্লবের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলের বিকল্প নেই। আমরা গভীরভাবে অবগত আছি যে, গণঅভ্যুত্থানের পরও তৎকালীন সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজরা বিনা বাধায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই সকল অসামাজিক অপরাধের নির্মূল চাই। আজকের সংবাদ সম্মেলন প্রথম ধাপ। সাংবাদিক বন্ধুরা, আপনাদের মাধ্যমে আমি অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি তুলে ধরছি- সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিতে জড়িত এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ ও বরখাস্ত করতে হবে। সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি হয় এমন স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল নিশ্চিত করতে হবে।
প্রয়োজনে সাময়িক সময়ের জন্য জনবল বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গার্মেন্টস, মার্কেট এবং ফুটপাথ সহ সকল সেক্টরে চাঁদাবাজ এবং দখলদারদের উন্মোচন করা হয়েছে: উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। গাজীপুরের সকল থানায় যাতে সুষ্ঠুভাবে অভিযোগ দায়ের করা যায় এবং সকল নাগরিক যাতে সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও রাস্তাঘাটে যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পরেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যর ও উপস্থিত ছিলেন।