রোববার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়া পল্টনে আনন্দ ভবনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বৈষ্যমবিরোধী ছাত্রদের কাছে অনুরোধ জানাব, কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করবেন। ভুল বুঝবেন না। সেটা হলো এই, এ ধরনের কথাগুলো ফ্যাসিবাদীদের মুখ দিয়ে আসে— কবর দিয়ে দেবো, ধুয়ে ফেলবো, কেটে ফেলবো, ছিঁড়ে ফেলবো। এ সব কথা ভালো কথা নয়। জাতি তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরাও তাঁকিয়ে আছি তোমাদের দিকে। তোমাদের মুখ থেকে এ ধরনের কথা আমরা আশা করি না।’
পতিত স্বৈরাচারের প্রেত্মাতাদের প্রশাসনে রেখে সরকার কী সংস্কার করতে চায় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান থেকে বারবার বলেছি, প্রতিত স্বৈরাচার শেখা হাসিনা চলে গেছে কিন্তু তার প্রেত্মাতারা সব রয়ে গেছে। আমার সামনে এখন ৮ জনের নাম আছে। আমি নাম বলব না। এরা সবাই সচিব হিসেবে মন্ত্রণালয়ে অবস্থান করছে। সবচেয়ে আশ্বর্যজনক বিষয় হলো, এতো বিরোধিতার পরও মাত্র দুই-তিন দিন আগে সচিবালয়ে আরেকজন প্রাক্তন বাকশালী সচিবকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন বাকশালীদের প্রেত্মাতাকে বগলদাবা করে নিয়ে আপনারা কী সংস্কার করবেন? এটা জাতির প্রশ্ন। আমারও প্রশ্ন জাগে? আমরা কি আওয়ামী লীগকে আবার ফিরিয়ে আনার রাস্তা করে দিচ্ছি?’
যথাসময়ে নির্বাচনের দাবির কথা পুনরুল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, সংস্কারের কথা বলছেন- করেন, যতটুকু লাগে করেন, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যথাসময়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন দেবেন।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বাযক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটি সদস্য কাজী আবুল বাশার, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বাক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার নুরুদ্দিন আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি বাছির জামাল, সাংবাদিক কামরুজ্জামান রাজিব, মহসিন হোসেন, নাজিয়া আফরিন, আহমেদ সালেহীন, রেজা করীম, বাবুল তালুকদার, মো. মহসিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ,মহানগর দক্ষিণের লিটন মাহমুদ, সাইদুর রহমান মিন্টু, আব্দুস সাত্তার, মজিবুর রহমান মজু, ফরিদ উদ্দিন, ফারুকুল ইসলাম, শরীফ হোসেন, আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, নাছরিন রশিদ পুতুল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।