আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে (৩০ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্ট আয়োজনের নেপথ্য ঘটনা নিয়ে কথা বলেন।
কর্মশালায় উপস্থিত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ঢাকায় ১৬ ডিসেম্বরে আপনারা দেখেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামে একটি কনসার্ট হয়েছে। আমরা গত ১৫ বছরে দেখলাম কিছু হলেই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে শিল্পী আসে। আমাদের দেশের শিল্পীদের কোনো খবর নেওয়া হয় না। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো অনুষ্ঠানেই ভিনদেশি শিল্পীদের আনা হয়। শিল্পীরা কী করে না করে তা তথাকথিত এমপি-মন্ত্রীরা মাটিতে বসে দেখেছে। খুবই ইনসাল্টিং ব্যাপার ছিল। নিজেকে খুব ছোট মনে হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, তারা (পলাতক সরকার) ৫ আগস্ট যখন পালিয়ে গেল। এর আগে ১৫ বছরে দেখেছি কিছু হলেই শুধু ইন্ডিয়ান শিল্পী আসে। আশ্চর্য ব্যাপার। দেশি শিল্পীদের খবরই পাই না। তারপর ৫ তারিখে পরিবর্তন হলো। হঠাৎ করে দেখলাম এতদিন দেখেছি দিল্লি থেকে শিল্পী আসত এখন দেখি ইসলামাবাদ থেকে আসে। পাকিস্তানি শিল্পী আসে; কনসার্ট করে। একদিন সকালে হঠাৎ দেখি এক পাকিস্তানি শিল্পী আসবে।
তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন কেন আসবে? আসবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য ফান্ড অ্যারেঞ্জ করতে। সেই শিল্পী কোনো পয়সা নেবে না। ওখান থেকে যা পয়সা উঠবে তা ফান্ডে জমা হবে। কিন্তু ওখানে একটা লুকোনো ব্যাপার ছিল। বিপিএল এর খেলা ছিল। পত্রিকার নিউজে আমি যা দেখলাম সেই বিপিএল এর খেলার নাম করে সাড়ে তিন কোটি টাকা ওই শিল্পী নিয়ে যাবে বা নিয়ে গেছে। সকালে নিউজটা দেখার পর খুব মেজাজ খারাপ হলো, খুব বিরক্ত লাগল। আমি তখন আমার দলের কালচারাল লাইনে যারা আছে এরকম কয়েকজনকে ডাকলাম। ডেকে বললাম, আমি একটি কনসার্টের আয়োজন করতে চাই ঢাকা শহরে। কিন্তু ওই কনসার্টের বৈশিষ্ট্য হতে হবে সব বাংলাদেশি শিল্পী থাকবেস।
ধারণত কনসার্ট বলতে আমরা বুঝি ব্যান্ড সঙ্গীত যারা করে। আমি বললাম না, বাউল থাকবে পল্লীগীতি থাকবে। অর্থাৎ আমার দেশের সব ধরনের শিল্পী থাকবে। বিকেল থেকে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কোথায় করবে, আমি বললাম আমরা মানিক মিয়ার সামনে করলে সমস্যা কোথায়। বিজয় দিবস, মানুষজন আসবে গান শুনবে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ কনসার্ট বলতে যা বোঝায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কনসার্ট ছিল এটা। আমাদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের নামকরা যত শিল্পী আছে সবাই সেদিন সেখানে পারফর্ম করেছেন।