শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির চেষ্টা ও পরবর্তী গণপিটুনির শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
আজ শনিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ডাকাতদের সাথে থাকা পালং মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। তবে নিহত ডাকাতের নাম পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদের মধ্যে চারজনের নাম পরিচয় শনাক্ত করা গিয়েছে। তারা হলেন, মুন্সিগঞ্জের মহেষপুর এলাকার সানাউল্লাহ গাজীর ছেলে রাকিব গাজী (৩৮), একই জেলার কালিরচর এলাকার বাচ্চুর ছেলে রিপন (৪০), শরীয়তপুরের জাজিরার কুণ্ডেরচর এলাকার মোহাম্মদ দেওয়ানের ছেলে আনোয়ার দেওয়ান (৫০) ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার হারুন তালুকদারের ছেলে সজিব তালুকদার (৩০)।
এদের মধ্যে রিপন ও সজিব তালুকদার গণপিটুনির শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় অজ্ঞাতনামা আরও এক ডাকাত সদস্য।
স্থানীয়, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে একদল ডাকাত মাদারীপুরের রাজারচর এলাকায় বাল্কহেডে ডাকাতির চেষ্টা করে। পরে তাদের ধাওয়া দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় ডাকাতরা পালিয়ে শরীয়তপুরের তেতুলিয়া এলাকায় আসলে স্থানীয়রা বাল্কহেড দিয়ে তাদের স্পিডবোটের গতিপথ রোধ করে। এসময় ডাকাতরা হাতবোমা ও এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আহত হন বেশ কয়েকজন। পরে ডাকাতরা স্পিডবোট ফেলে পালানোর সময় সাতজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। ডাকাতদের গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে আহত বাকি ৫ সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থান উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসক। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডাকাতের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির চেষ্টাকালে গণপিটুনির শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত মোট তিনজন মারা গেছে। এছাড়াও ডাকাতির ঘটনায় একটি ডাকাতি চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।