হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরও শক্তিশালী করেছে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক /
/ ৯
Time View
Update :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
Share
হরমুজ প্রণালির অবরোধ আরও সম্প্রসারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন।
ওয়াশিংটন জানায়, পাকিস্তানে তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার থেকে তারা ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বন্ধ করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হয়, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।
ড্যান কেইন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, পারস্য উপসাগরের বাইরেও অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী “ইরানি পতাকাবাহী যেকোনো জাহাজ বা ইরানকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন জাহাজকে সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করবে।”
তিনি বিশেষভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, অবরোধ শুরুর আগে ইরানের বন্দর থেকে যেসব জাহাজ ছেড়ে গেছে, সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনী এক সতর্কবার্তায় জানায়, তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কিত সব জাহাজ, “যেখানেই থাকুক না কেন, তল্লাশি, আটক ও জব্দের আওতায় পড়বে।”
তারা যেসব পণ্য জব্দ করা হবে তার তালিকাও দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদ, পারমাণবিক উপাদান, তেলজাত পণ্য, লোহা, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ ঘোষণার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর দিকে যাওয়া ১৪টি জাহাজ ফিরে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে ওঠানামা বা তল্লাশি চালানো হয়নি।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের তেলবাহী জাহাজ “শালামার” সোমবারের পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে অপরিশোধিত তেল নিয়ে বেরিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে “স্পষ্ট আগ্রাসন” বলে আখ্যা দেন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।
একই দিনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেন, অবরোধ তুলে নিতে তেহরান মার্কিন নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই যুদ্ধজাহাজগুলোর দিকে তাক করা আছে, এবং আমরা সেগুলো ডুবিয়ে দিতে পারি।”