‘শুভ কাজে সবার পাশে’—এই প্রত্যয় নিয়ে দেশজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সামাজিক সংগঠন ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’। তবে এর মধ্যে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটির বহুমুখী ইতিবাচক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগের কারণে এটি এখন পুরো শুভসংঘের দেশব্যাপী নেটওয়ার্কের জন্য একটি আদর্শ বা ‘রোল মডেল’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে সংগঠনটির এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শুভসংঘের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি শাখার সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও সোবহান আলী। হল প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরহাদ আহমেদ,মারুফ আহমেদ, তমাল অধিকারী, মাসুদ রানা, ইমরান হোসেন, এবং সংগঠনটি থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত একঝাঁক অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী।
উক্ত সভায় মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বসুন্ধরা গ্রুপের শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের গল্প ও তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব চিত্র। মেধার জোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে যাদের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, বসুন্ধরা শুভসংঘের মাসিক বৃত্তি তাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে তাদের বৃত্তি পাওয়ার আগের ও পরের আর্থিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
মাসুদ রানা নামের এক শিক্ষার্থী জানান, “বৃত্তি পাওয়ার আগে টিউশনি এবং ধার-দেনা করে কোনোমতে দিন পার করতে হতো। পড়াশোনার চেয়ে প্রতি মাসের খরচ জোগানোর চিন্তাই বেশি থাকত। কিন্তু শুভসংঘের এই নিয়মিত বৃত্তির পর আর্থিক সেই দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কেটে গেছে। এখন শতভাগ মনোযোগ পড়াশোনায় দিতে পারছি।”
সাব্বির আহমেদ নামে অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের শুধু আর্থিক সহায়তাই দেয়নি, আমাদের স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে, আমরা নিজেরাও চাই পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াইতে ”
শিক্ষার্থীদের এসব অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও পরিবর্তনের গল্প ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে এক অনন্য মানবিক রোল মডেলে রূপান্তর করেছে, যা অন্যান্য শাখার জন্য শিক্ষণীয়।
আর্থিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সভায় সংগঠনটির আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান কর্মসূচি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ইংরেজি ছাড়াও ভিন্ন ভাষা শিক্ষাসহ বেশ কিছু নতুন প্রজেক্ট হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।