নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ এবং রাস্তায় গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে তীব্র যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৪ মে) ভোর থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। বিশেষ করে মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
এদিকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলমান রাস্তা সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে কাঁচপুর থেকে গাউছিয়া পর্যন্ত সড়কেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদ শেষে ‘নাড়ির টানে’ বাড়ি ফেরা ও ঢাকাফেরত যাত্রীদের এই দুর্ভোগ লাঘবে জেলা প্রশাসনের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৭টার পর থেকে মহাসড়কের কাঁচপুর, সোনারগাঁও ও মেঘনা অংশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও কয়েক মিনিট পর পর গাড়ি সামান্য করে এগোচ্ছিল।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের যাত্রীরা জানান, সকালে রওনা দিলেও সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া ও চৈত্র স্ট্যান্ড এলাকায় এসে তারা দীর্ঘ সময় আটকে থাকেন। তীব্র গরমে গাড়ি আটকে থাকায় বাসের ভেতরে থাকা শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি পোহাতে হচ্ছে।
পরিবহন চালক ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যানজটের সূত্রপাত হয় কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে। সেখানে একটি পণ্যবাহী গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তার একপাশে আটকে পড়ার পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও কাঁচপুর অংশে। এছাড়া ছুটির দিন শেষে একযোগে ঢাকামুখী গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, “দাউদকান্দি এলাকায় একটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ধীরগতির সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিকল হওয়া গাড়িটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।”
ওসি আরও জানান, ঈদ পরবর্তী সময়ে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।