• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে: চিফ হুইপ ফের চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন? রাজধানীর ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজার পুলিশ আজ রাতে আকাশে উল্কাবৃষ্টি, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে যেভাবে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও সাজেক সড়ক অবরোধের ঘোষণা সুনামিতে হারিয়েছেন স্ত্রী, ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিয়ে তাকে খুঁজছেন স্বামী! ইরাকের কুর্দিস্তানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর ৭ রোগে আক্রান্তরা পাবেন এক লাখ টাকা, আবেদন করবেন যেভাবে ঢাকা-গাজীপুর সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা কর্ণফুলী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঢাকা-গাজীপুর সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক / ২০ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা-গাজীপুর করিডরে যান চলাচল সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যমান বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, করিডরের উভয় পাশে সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য তিনটি করে লেন নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে বিআরটি স্টেশন, লেন বিভাজক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লেনের দু’টি উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সোমবার জারি করা এক চিঠি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বিলুপ্ত করে এর দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতির হালনাগাদ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বাসসকে বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

২০১২ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি ২ হাজার ৩৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।

তবে বিভিন্ন কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে এবং কয়েক দফা সংশোধনের ফলে প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ দশমিক ৩২ কোটি টাকায়।

বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থা এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য দেভেলপমঁ (এএফডি) প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ অবকাঠামোগত কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হলেও সার্বিক বাস্তব অগ্রগতি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বাড়ানো হয়নি।

পরবর্তী সময়ে বিআরটির জন্য নির্মিত পৃথক লেন সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও বাস কেনার দু’টি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় পরিকল্পিত বিআরটি সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর সরকার প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চারটি বিকল্প বিবেচনা করে। এগুলো হলো, বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ করা, রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং পদ্ধতিতে বাস চালু করা, করিডরকে টোলভিত্তিক এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা অথবা সাধারণ মহাসড়কে পরিণত করা। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের বিকল্পটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি পর্যালোচনা দলও প্রকল্পটির নকশাগত ত্রুটি ও সীমিত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বিআরটি সেবা চালুর পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। দলটি নতুন করে বিনিয়োগ না করে বিদ্যমান অবকাঠামো সাধারণ যানবাহন চলাচলে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরেও অন্তর্বর্তী সরকার অতিরিক্ত সময় ও অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঢাকা-গাজীপুর রুটে বিআরটি সেবা চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তবে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এ সিদ্ধান্তকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত গাজীপুর পরিবহন মহাপরিকল্পনা এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাদের আশঙ্কা, এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে এবং দীর্ঘদিন নির্মাণকাজের কারণে ভোগান্তিতে থাকা গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের গণপরিবহনের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ হবে না।

দীর্ঘদিনের বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতার পর ঢাকা-গাজীপুর করিডরকে ছয় লেনের সাধারণ সড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এখন বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category