কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ডুমুরিয়া চাঁন্দপুর এলাকায় সরকারি ৪৫ দাগের রাস্তার জমি সংকুচিত করে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা-সংলগ্ন লেক ভিউ হোটেলের পাশের পুকুরটি রাতের আঁধারে ইমারত নির্মাণের বর্জ্য ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, সিএস ও আরএস জরিপের ম্যাপে ৪৫ নং সরকারি দাগের পাশে ৬৭ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দেখানো আছে। কিন্তু বিএস জরিপের ম্যাপে তা ২২ থেকে ২৫ ফুট দেখানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এ সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি জমি নিজেদের দখলে নিচ্ছে।
২৫ বছরের চেষ্টা, এখন রাতে বর্জ্য ফেলা:
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে পুকুরটি ভরাটের একাধিক বার চেষ্টা হলেও কোনোটিই সফল হয়নি। সম্প্রতি রাতের বেলায় ইমারত নির্মাণের বর্জ্য ফেলে সেটি ভরাট করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে ইমারতের বর্জ্য দিয়ে ভরাটের সত্যতা পান।
গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হলে একাধিক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, রাস্তা সংলগ্ন লেক ভিউ এর পাশে এই পুকুরটি ও তার পাশে ধরমার পুকুর তাঁদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য। কয়েক বছর ধরে একাধিকবার ভরাটের চেষ্টা হলেও কেউ সফল হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, নতুন তহশিলদার এমদাদ যোগদানের পর একটি প্রভাবশালী মহল তাঁর সঙ্গে যোগসাজশে পুকুর দুটি ভরাট করছে।
পুকুর ভরাটের বিষয়ে ৫ নং পাঁচথুবী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার এমদাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কে কোথায় পুকুর ভরাট করছে, তা দেখার সময় তাঁর নেই। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, “ভরাটকারী” মিজানুর রহমান ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএস দাগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ করেন।
পুকুর ভরাটের বিষয়ে মিজানুর রহমান ভুঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এত প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন না। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগাযোগ এবং অভিযোগ দিতে বলেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, পুকুর ভরাটে সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না এবং এর বৈধতা আছে কি না তা নিশ্চিত না করেই পুকুর দুটি নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ভরাট করে প্লট তৈরীর পাঁয়তারা চলছে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে। তাঁরা দাবি করেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, আদর্শ সদর উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যেনো নেবেন, সরকারি জমির সীমানা, সিএস-আরএস ও বিএস জরিপের নথি এবং ভরাটের অনুমতি যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সহ এই ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন৷