• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
লেবাননে যুদ্ধবিরতি: ইরান ও হিজবুল্লাহর সাফল্য বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার যুদ্ধবিরতির পর লেবাননকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস পর্তুগালের বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরও শক্তিশালী করেছে যুক্তরাষ্ট্র বন্দরটিলাস্থ আল হিকমাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান এবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলো সোমালিয়া ব্রাজিলের শিক্ষকদের টি-শার্টে লেখা ‘সংগ্রাম কর একজন ইরানির মতো’

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকটে পাম্পে পাম্পে হাহাকার, বিদ্রোহের আশংকা করছেন রাজনৈতিক মহল

বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি / / ২৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

লমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের তীব্রতায় উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পেয়ে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ ১৭ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এনামুল হক ফিলিং স্টেশন ও তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণের সময় পাম্প দুটোতে দুই তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরেও মিলছে না মুক্তি। এনামুল হক ফিলিং স্টেশনে কথা হয় তেল নিতে আসা স্কয়ার ফার্মার এমপিও আব্দুস সালামের সাথে। তিনি বলেন, গতরাতে সিরিয়াল দিয়েছি। এখন দুপুর দুইটা কিন্তু তেল পাবো কি না সেটা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় আছি। তিনি আরও বলেন, আমরা মার্কেটিং এ কাজ করি, বাইক চালাতে না পারলে কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। একই কথা বলেন এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক এন্ড পলিমার ইন্ডাস্ট্রির সেলস অফিসার শরিফুল ইসলাম। তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী রওশনুল হক তুষার বলেন, ডিপো থেকে তেল পেয়েছি ২৫০০ লিটার। লাইনে দাঁড়িয়ে আছে চার হাজার বাইক। এত স্বল্প তেলে এত বড় লাইনে সবাইকে তেল দেওয়া অসম্ভব। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিনিধিকে বলেন, রেশনিং ও ফুয়েল কার্ড করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র সাংবাদিক কামরুল হাসান বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় ত্রিশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার বাইক রয়েছে কিন্তু পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ কম। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলায় তেল সরবরাহ বৃদ্ধি করার জোর দাবি জানান। আজ সরেজমিন ঠাকুরগাঁও জেলার জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে দিনভর বিভিন্ন পাম্পে গ্রাহকদের মধ্যে মারামারি ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখতে পাওয়া গেছে। জেলার এনামুল হক ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক ও পাম্পের কর্মচারীদের মধ্যে বাক বিতন্ডায় বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। অপরদিকে জেলার মফস্বল অঞ্চলের পাম্পগুলোতে সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের খবরদারিতে তেল নিতে আসা ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সদর উপজেলার ভূল্লী এলাকার তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা মুখ চিনে তেল সরবরাহ করছে। ঐ নেতারা ফুয়েল কার্ডের তোয়াক্কা না করে যাকে ইচ্ছে তাকে এক হাজার টাকার তেল দিচ্ছে। অপরদিকে ফুয়েল কার্ডধারী রা পাচ্ছে মাত্র পাঁচ শত টাকার তেল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মফস্বল অঞ্চলের পাম্পগুলোতে বিএনপি নেতাদের দাপটে সাধারণ ভোক্তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাংগী উপজেলার মোহাম্মদ আলী ফিলিং স্টেশন, লাহিড়ী ফিলিং স্টেশন, সদরের শিবগঞ্জ এলাকার দুটি পাম্প, ভূল্লী এলাকার তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশন, সালন্দরে কাজি ফিলিং স্টেশনসহ মফস্বলের পেট্রোল পাম্পগুলো কার্যত রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে। জেলা শহরের রুপসী বাংলা ফিলিং স্টেশন ও বাঁধন কাকন ফিলিং স্টেশন যেন অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও রোডের আব্দুল কাদের ফিলিং স্টেশনের তেলেসমাতি রুখবার যেন কেউই নেই। ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট সমাজচিন্তক আজমত রানার সাথে কথা হয় চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জ্বালানি তেল নিয়ে যা হচ্ছে তা কৃত্তিম।তৃতীয় কোন পক্ষ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনমনের ক্ষোভকে পুঁজি করে বিদ্রোহের পথে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছে। জেলার রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে তা আতংকজনক। কৃষকদের সার ও ডিজেল সংকট, পেট্রোল অকটেন তথা সার্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।

জেলার চলমান জ্বালানি সংকটের এই কাহিল পরিস্থিতিতে জেলার বিএনপি নেতা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এদিকে জেলার চলমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের কর্তব্যরত কর্মকর্তাগণ দিনরাত কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। স্থানীয় জ্বালানি ভোক্তা ও সুশীল সমাজের দাবি জেলা প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি করার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category