• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কমলাপুর রেলস্টেশনে ৩০০ অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একদিনে চার অভিযান, ভারতীয় পণ্য ও মাদকসহ গ্রেপ্তার-৩ ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ বুড়িচংয়ে ফসলি জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন

পে স্কেল কার্যকর ১ জুলাই, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডে কত বাড়ছে বেতন?

অনলাইন ডেস্ক | / ৬৮ Time View
Update : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কাঠামোতে আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। বহুল আলোচিত সেই নবম জাতীয় পে স্কেল নতুন অর্থবছর ১ জুলাই থেকে কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে।নতুন পে স্কেলেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বড় ধরনের সুখবর। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন সমানুপাতিক হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

চলতি মাসের ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটির বৈঠকে নবম পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা কাঠামো এবং বাজেট সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তৃতীয় প্রতিবেদনটি পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে বলেও জানা যায়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে। পরে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন।সর্বশেষ, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহণ ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে। এ কারণে নতুন পে স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

পে কমিশনের আলোচনায় বর্তমানে দুটি বিকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমটি হলো অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়টি হলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন দ্বিগুণ করার ব্যবস্থা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা হতে পারে। সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের জন্য আরও বেশি সুবিধার আলোচনা চলছে। ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দ্বিগুণ হলে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।

নবম পে স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো পেনশন কাঠামোর পরিবর্তন। বর্তমানে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কম পেনশন পাওয়া লাখো অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারেন।

 সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে নবম পে স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হবে। দ্বিতীয় বছরে বাকি অংশ এবং তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হবে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রথম বছরেই অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।

এদিকে সরকারি ঘোষণা ও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category