হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আজ, ৩ অক্টোবর আদালত তার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা
মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, মেজর আক্তারুজ্জামান বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো এমন আইনি হেনস্তা বা কারাবরণের মুখোমুখি হননি। এমনকি বিগত সরকারের আমলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়নি। বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ বিমানবন্দর কেন্দ্রিক ঘটনাকে পুঁজি করে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। জামায়াত নেতারা অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ওপর এই ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত করার ‘অপরাধে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দলটির তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রশাসনের বক্তব্য
মামলার এজাহার ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজ ও জমজমের পানি পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরে চরম অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়। ওই সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান যাত্রীদের ভোগান্তির প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।
দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভিডিও ধারণে বাধা দিলে মেজর আক্তারুজ্জামান কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিমানবন্দর প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং সেখানে কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলা বা রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ ফৌজদারি অপরাধ।
আপাতত ১ দিনের পুলিশি রিমান্ডে থাকা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।