• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লা অন্ধকল্যাণ চক্ষু হাসপাতালের ১৭ কোটি ২২ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ও অবৈধতার কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লার বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির বর্তমান পরিচালনা কমিটির বৈধতা এবং ১৭ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাতসহ ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা সরকারি চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সমিতিটির নিবন্ধন নম্বর ৪২৬/৯১ উল্লেখ করে বর্তমান পরিচালনা কমিটির বৈধতা এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ এবং ১৯৬২ সালের বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদনসহ গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। সরকারি নথিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগগুলো যাচাই করতেই নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

“তাইফুরকে ঘিরে পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক”
অন্ধকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ হ ম তাইফুর আলমকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় আ হ ম তাইফুর আলমকে কুমিল্লায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের নেতৃত্বাধীন কথিত ‘শান্তি মিছিলে’ দেখা গিয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্ধকল্যান সমিতির একটি গোপন মিটিংয়ের সময় একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাইফুর আলমকে মিছিলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি গর্বের সাথে স্বীকার করতে দেখা যায়।

এর আগে ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে কুমিল্লা অন্ধকল্যাণ সমিতির ১৭ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্তের কথা প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তাইফুর আলমসহ একাধিক ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপনের কথা বলা হয়েছিল। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই তখনও তদন্তাধীন ছিল।

মাদক কারবারির পক্ষে তদবিরের অভিযোগও আলোচনায়,

তাইফুর আলমকে ঘিরে আরেকটি বিতর্ক সামনে আসে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। সেখানে ‘আমার দেশ’কে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে কুমিল্লায় মাদক কারবারির পক্ষে বিএনপি নেতাদের তদবিরের অভিযোগের কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আ হ ম তাইফুর আলমের নামও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, মাদক মামলায় অভিযুক্ত ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনি সহায়তা ও জামিনের বিষয়ে তাইফুর আলম ভূমিকা রেখেছিলেন। একই প্রতিবেদনে একটি কথোপকথনের অডিও নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেখানে ‘থানাওয়ালা আইলে আমারে ফোন লাগাই দিও’ ধরনের বক্তব্য থাকার দাবি করা হয়েছে।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাইফুর আলম। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি হুমায়ুন কবিরের জামিন করেছিলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে তোলা অন্যান্য অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলেছেন।

সরকারি তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন;
সরকারি চিঠিতে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেটি হলো অন্ধকল্যাণ সমিতির বর্তমান পরিচালনা কমিটির বৈধতা এবং ১৭ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাতসহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ।

এখন তদন্তের মাধ্যমে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রথমত, বর্তমান পরিচালনা কমিটি কীভাবে গঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গঠনতন্ত্র ও নিবন্ধন বিধির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

দ্বিতীয়ত, ১৭ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকার যে আর্থিক অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, তার প্রকৃত পরিমাণ কত এবং অর্থের ব্যবহার কোথায় হয়েছে।

তৃতীয়ত, সমিতি ও চক্ষু হাসপাতালের অর্থনৈতিক লেনদেন, সরকারি প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম, নিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডে কোনো বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না।

চতুর্থত, পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে সংগঠনের আর্থিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না।

পঞ্চমত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমিতির কর্মকর্তা বা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না এবং থাকলে তার সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

তদন্ত প্রতিবেদনেই মিলবে চূড়ান্ত উত্তর;
বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি কুমিল্লাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে আর্থিক অনিয়ম, পরিচালনা কমিটির বৈধতা, নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন সরকারি তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে অভিযোগগুলোর কোনটি সত্য, কোনটি অসত্য এবং কার কী দায় রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এ অবস্থায় কুমিল্লার অন্ধ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনানুগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category