রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কঠোর নির্দেশনা ও স্মারক জারির এক বছর পেরিয়ে গেলেও খিলগাঁওয়ের দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি বহুতল ভবনের অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত অংশের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ কার্যকর হয়নি। রাজউকের জোন-৫ এর অথরাইজড অফিসারের কার্যালয় থেকে দেওয়া চিঠির পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় এখনও বহাল তবিয়তে চলছে ভবনটি। শুধু তাই নয়, রাজউকের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ভবনটির অবৈধ অংশের নির্মাণ কাজ এখনও পুরোদমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খিলগাঁওয়ের দক্ষিণগাঁও এলাকার জে-ব্লকের ১৬৩/বি নম্বর হোল্ডিংয়ের মালিক জনাব মো: আলাউদ্দিন খান এবং তার সহযোগীরা রাজউকের অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করে ইমারত নির্মাণ করছেন।
রাজউকের পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনটির সম্মুখ, পশ্চাৎ ও উভয় পাশে বাধ্যতামূলক খালি জায়গা (সেটব্যাক) রাখার নিয়ম চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
রাজউকের স্মারক নম্বর ২৫.৩৯.০০০০.০০০.১২২.৩২.০০৪৫.২২.২১ অনুযায়ী, ভবনটির উত্তর পাশে ৩.১৬ মিটার জায়গা ছাড়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে কোনো জায়গাই রাখা হয়নি। একইভাবে সম্মুখ বা দক্ষিণ পাশে ৩.৭৭ মিটারের বিপরীতে মাত্র ০.০৩ মিটার এবং দুই পাশেও নকশার ব্যাপক বিচ্যুতি ঘটিয়ে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এর ৩(বি) ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এই গুরুতর অপরাধের প্রেক্ষিতে বিগত ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই রাজউকের অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ভবনটির পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ডিপিডিসি খিলগাঁও বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ইউটিলিটি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে খিলগাঁও থানাকেও ভবনটির নির্মাণকাজ ও ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
কিন্তু রাজউকের এই আদেশ জারির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ডিপিডিসি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। রাজউকের এই আদেশ ফাইলবন্দি হয়ে থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং ইউটিলিটি সংযোগ কাটার নির্দেশ থাকার পরও কীভাবে ভবনটির অবৈধ অংশের নির্মাণ কাজ এখনও চলমান থাকে, তা বোধগম্য নয়। নকশা না মেনে এভাবে ভবন তোলায় পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং আশেপাশের বাড়িঘরগুলো আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি একটি সংস্থা নির্দেশ দেওয়ার পরও অন্য সংস্থাগুলো কেন তা কার্যকর করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজউকের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়া কেবল আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। নকশাবহির্ভূত এমন ভবনের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান বা আইনি ব্যবস্থা না নিলে অপরিকল্পিত ঢাকা বিনির্মাণ আরও ত্বরান্বিত হবে।
এ বিষয়ে ডিপিডিসি খিলগাঁও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রাজউক সূত্র জানায়, তারা ইউটিলিটি সংযোগ কাটার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন এবং স্থানীয় থানাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ বন্ধ করা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের।