পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালীন ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৭০ জন। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত রাজধানীতে এই ধরনের বড় আকারের হামলা দেশটিতে চরমপন্থী সহিংসতার উদ্বেগজনক উত্থানকে নতুন করে সামনে এনেছে।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘খাদিজাতুল কুবরা ইমামবারগাহ’ মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী মসজিদের মূল ফটকে পৌঁছালে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, আর ঠিক তখনই সে শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৬৯ জন আহতের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতরে ধ্বংসস্তূপ ও ভাঙা কাচ ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত মেঝেতে মুসল্লিদের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায় দীর্ঘ দিন ধরেই চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর (যেমন: টিটিপি) লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।
ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান মেমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত ইসলামাবাদে এ ধরনের হামলার ঘটনা বিরল হলেও, গত বছরের নভেম্বরেও এক আফগান নাগরিকের চালানো আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। এই সর্বশেষ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।