কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামপুর এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী(১৬) কে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রশাসন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভিকটিমের পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সকালে হারপাকনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যায় ওই ছাত্রী। স্কুল ছুটি শেষে দুপুর দেড়টার দিকে মটকিরচর ঈদগাহের সামনে পৌঁছালে একই গ্রামের হাকিম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৩) ও অজ্ঞাত এক সিএনজি চালক জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে। ভিকটিমকে হোমনা থানার কুটুমবাড়ী সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিকেলে ভিকটিমকে স্কুলের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভিকটিম পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা গত ২৪ এপ্রিল মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে আট দিনেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভিকটিমের পরিবারকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
ভিকটিমের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “স্বামীহারা আমি, মেয়েটা স্কুলে গিয়ে ইজ্জত হারিয়েছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমরা প্রাণভয়ে বাড়ি থাকতে পারছি না। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন বলেন, “ভিকটিমকে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে হুমকির অভিযোগ পেয়ে বাদীকে থানায় জিডি করতে পরামর্শ দিয়েছি।”
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হুমকির বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।