রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জে অবস্থিত মেডিটেক জেনারেল হাসপাতালে এক দেড় বছর বয়সী শিশুর চিকিৎসা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, প্রাথমিকভাবে একটি কাটা ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় অদক্ষতার কারণে শিশুটির মাথায় নতুন করে আরও একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, ফলে সেলাইয়ের সংখ্যাও বেড়ে যায়।
ভুক্তভোগী মা জানান, বাসায় দুর্ঘটনাবশত বাথরুমে পড়ে শিশুটির মাথায় আঘাত লাগে। পরিবারের অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় এবং স্বামী অস্ত্রোপচারের পর বেড রেস্টে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সন্ধ্যায় ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে মেডিটেক জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে সেলাই প্রয়োজন বলে জানিয়ে ইমার্জেন্সি বিভাগে পাঠান। তবে ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসা শুরুর আগে চুল কাটার সময়ই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ইন্টার-পাস অদক্ষ কর্মচারী ব্লেড দিয়ে শিশুর মাথার চুল কাটতে গিয়ে বিদ্যমান ক্ষত আরও বড় করে ফেলে এবং নতুন করে আরেকটি কাটা তৈরি করে।
মা আরও অভিযোগ করেন, তিনি বারবার অনুরোধ করলেও ওই কর্মচারীকে থামানো হয়নি। পুরো প্রক্রিয়ার সময় নার্স শিশুটির হাত শক্ত করে ধরে রাখলেও মাথা স্থির রাখার জন্য কেউ দায়িত্ব নেয়নি। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত থাকলেও তিনি চেয়ার থেকে উঠে সরাসরি কোনো তদারকি করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসার সময় দেখা যায়, যেখানে প্রাথমিকভাবে ৭টি সেলাই দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে নতুন সৃষ্ট গভীর ক্ষতের কারণে অতিরিক্ত আরও ২টি সেলাই দিতে হয়—মোট সেলাইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯টিতে।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী হাসপাতালের নথি অনুযায়ী একজন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, যার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তাছাড়া যে ব্লেডটি ব্যবহার করা হয়েছে তা জীবাণুমুক্ত (স্টেরাইল) ছিল কিনা, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।