চট্রগ্রামের পতেঙ্গায় অধিকাংশ আবাসিক হোটেল গুলোতে অবাধে চলছে অসামাজিক কার্যক্রম, প্রেমিক যুগলদের অবাধ যাতায়াত ছাড়াও মদ্যপান, ইয়াবা সেবনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা সী-বীচ উক্ত এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন, বিশেষ দিবসগুলো ও সরকারি ছুটির দিনে সী-বীচ এলাকায় প্রচুর মানুষের জনসমাগম ঘটে। বন্ধের দিনগুলোতে গার্মেন্টস বন্ধ থাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকদের (নারী/পুরুষ) আনাগোনা থাকে বেশি।
পতেঙ্গা সী-বীচ দোকান মালিক সমবায় সমিতির অধীনে সী-বীচ এলাকায় প্রায় নামে বেনামে ৬০-টির ও খাবার হোটেল রয়েছে। এছাড়াও নামে-বেনামে বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। অধিকাংশ হোটেলগুলোতে সেবা দেয়ার নাম করে অসামাজিক কাজে সহযোগিতা এবং মাদক সেবনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। মালিক পক্ষের লোকেরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রেমিক যুগলদের অপকর্ম করার সুযোগ দিয়ে বাণিজ্য করছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে এই সমস্ত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে হোটেল সমূহ হলো – ১) হোটেল সমুদ্র বিলাস ২) হোটেল বীচ ভ্যালী
৩) হোটেল সি মুন ৪) হোটেল ট্যানেল ভিউ
এরমধ্যে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো হোটেল সমুদ্র বিলাস হোটেল সি মুন তাদের হোটেলে যাতায়াতের জন্য অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন বিশাল স্টিলের ব্রিজ।
নগরীর শান্তিবাগের এক স্থানীয় একজন বাসিন্দা তার স্ত্রী -কন্যাদের নিয়ে প্রায় বেড়াতে আসে এখানে তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন আগে ভালো ছিলো এখন সমুদ্র বিলাসের সামনে দিয়ে হেটে গেলেও শুনতে হয় আজেবাজে কথা, মেয়ে-ছেলে নিয়ে রিতিমত বিব্রত হতে হয়আমাদের এই সেক্টরগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।
স্থানীয় তরুণের সাথে কথা বলে জানা যায় আবাসিক হোটেলগুলোতে এক ঘন্টা, দুই ঘন্টা এবং পুরোদিন ও রাত হিসেবে ভাড়া নেওয়া যায়,, রুম বয়ের মাধ্যমে মেলে নারী, মদ, ইয়াবা ইত্যাদি এ সকল বিষয়ে হোটেল পরিচালকদের সাথে কথা বললে তারা জানায় এগুলো ভিত্তিহীন শত্রুতা বসত কেও অপপ্রচার চালাচ্ছে ।
অথচ সম্প্রতি একে আবাসিক হোটেলে বসে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পাঁচ তরুণ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গেলে একই দিনে একজন সাংবাদিক সহ তিনজন মারা যায়।
স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জ পারভেজ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মদ্যপান করে তিন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে, একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। আবাসিক হোটেল গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন আমরা নিয়মিত আবাসিক হোটেল গুলোতে অভিযান পরিচালনা করে আসছি, আর এই ধরনের অভিযোগ পেলে তো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের চাওয়া চট্টগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন স্থানকে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ হিসেবে গড়ে উঠুক সেই সাথে তারা সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা ও কামনা করেন।