ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংস ও খাস জমি ভরাটের পেছনে জড়িত স্থানীয় এক প্রভাবশালী সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। অভিযুক্ত ব্যক্তি নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আল আমিন। প্রশাসনকে নানা কৌশলে ভুল বুঝিয়ে তার এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবশেষে মাঠে নামছে প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এক জরুরি চিঠির প্রেক্ষিতে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেম্বার আল আমিনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
উত্তোলিত সেই বালু দিয়ে বাঁশ বাজার বোর্ড অফিস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার সরকারি খাস কৃষি জমি ও শত বছরের পুরোনো পুকুরগুলো ভরাট করা হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, ওই অঞ্চলের এতিমখানা সংলগ্ন পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত ২০০ বছরের পুরোনো একটি প্রাকৃতিক ড্রেনও বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন এই সাবেক মেম্বার। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে প্রভাব খাটিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর নদী ও পরিবেশ ধ্বংসের এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ইমেইলে একটি লিখিত আবেদন জানান সাংবাদিক মোঃআলমগীর।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হাইড্রোলজি শাখার সহকারী প্রধান (পানি প্রকৌশল) আহমাদ শামস কাদির স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক স্মারকপত্র (১৮.২০.০০০০.০০০.০০৭.০৬.০০১৭.২৩.১৯১) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির আহবায়ক বরাবর পাঠানো হয়েছে।কমিশনের পাঠানো ওই চিঠিতে সাবেক মেম্বার আল আমিনের এই ধ্বংসাত্মক বালু উত্তোলন ও সরকারি খাস জমি ভরাট কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে জেলা প্রশাসককে জরুরি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই সাথে, পুরো বিষয়টি সরেজমিনে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিশনে একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, সাবেক মেম্বার আল আমিন প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে যে বিশাল পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি করছেন, তা দ্রুত বন্ধ করা না হলে ঐতিহ্যবাহী মেঘনা নদী তীরবর্তী এই অঞ্চলটি অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তারা অবিলম্বে ড্রেজার জব্দ করাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।