লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করায় এক অনুষ্ঠান আয়োজকের সঙ্গে ক্ষুব্ধ আচরণের অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে যথোপযুক্ত প্রমাণ পেশ করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ফোনালাপে ইউএনওর প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রশাসনের অনুমতির বাইরে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে রাতভর রেফেল ড্র সহ হাই লেভেলের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করতে বলার কারনে ইউএনও এর নামে মিথ্যা গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছয়লাব বিশেষ রাজনৈতিক মহলের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্তৃক প্রমাণ প্রদর্শিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য রাত দশটা পর্যন্ত অনুমতি গ্রহণ করে। নির্ধারিত সময়ের পর দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত হলেও অনুষ্ঠান শেষ না করে বরং উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেমে মিউজিক এবং রেফেল ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সময় ক্ষেপণ চলতে থাকে আয়োজক কমিটির।
অনুষ্ঠানটি শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে গেলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করেন। এদিকে আয়োজক কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী – উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোনালাপে মেহেরবান মিঠু ইউএনওকে জানান, রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এক্ষুনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ এ সময় ‘আপু’ সম্বোধন শুনে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান মুঠোফোনে জানান- সামনে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটা ছাড়াও রাত দশটার পরে উচ্চস্বরে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসার সন্নিকটে এত হাই ভোল্টেজের থানচি সিস্টেম বাজানো রীতিমতো আইনের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, “অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলায় বন্ধ করতে বলেছি, ‘আপু’ বলার কারণে নয়। আমি যদি আপু বলার জন্য ক্ষিপ্ত হতাম তাহলে অবশ্যই প্রথমবার কথা বলার সাথে সাথেই বলে দিতাম আমাকে আপু সম্বোধন করবেন না। রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ যখন আয়োজকগণ অনুষ্ঠান বন্ধে তালবাহানা শুরু করেন এবং বলেন এখনই বন্ধ করতেছি আপু তখন আমি প্রতিক্রিয়ায় জানাই আপনারা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করে ফেলুন এটা রীতিমতো আইনের পরিপন্থী ,তাছাড়া আমি কিন্তু আপনার আপু না । বিষয়টি তিনি অন্যভাবে নিয়েছেন।”