সাংবাদিক উপস্থিত হওয়াতে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা, সুলতানপুরের সালদা নদীর ক্যাম্প ৬০-বিজিবির আটককৃত চোরাই গরু ওপেন নিলাম স্থগিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায় যে, গত ১৫.০৫.২০২৬ ইং তারিখ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা, সুলতানপুরের সালদা নদীর ৬০-বিজিবি ক্যাম্প ও কুমিল্লার কাস্টমস এর গুদাম কর্মকর্তা নাজমুল ৬০-বিজিবি ক্যাম্পে, বিজিবির আটককৃত চোরাই গরু নিলাম করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তাদের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদেরকে। উক্ত বিষয় সংবাদ পেয়ে দেশপত্র পত্রিকা ও জয়যাত্রা পত্রিকার একটি টিম উপস্থিত হলে, ৬০-বিজিবি সাংবাদিকদেরকে ক্যাম্পে প্রবেশ করতে না দিয়ে, ক্যাম্পের বাহিরে প্রায় ৪০ মিনিট দাড়করিয়ে রাখেন, বলেন যে, সাংবাদিক নিলামে প্রবেশ নিষেধ ও নিলামেও অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে ইতঃপূর্বে অসংখ্য নিলামের ডাকের সময় অনুসন্ধানে যাওয়া টিম অংশগ্রহণ করেছিলেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ওপেন নিলাম বন্ধ ঘোষণা করা হয়, পরবর্তীতে আবার আগামীকাল ১৭ মে ২০২৬ ইং তারিখে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, কুমিল্লার সকল ব্যবসায়ীদেরকে ডাকা হয়েছে নিলামে অংশগ্রহণ করার জন্য। তবে ইতঃপূর্বে এমন বিশাল আকারে কয়েক জেলা নিয়ে নিলাম করতে দেখা যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায় যে, কোটবাড়ি বিজিবি ও সালদা নদী ৬০-বিজিবি”র এখানে যারা নিলামের ডাক নিয়ে থাকেন তারা অধিকাংশ ইন্ডিয়ার চোরাকারবারির সাথেই জড়িত। চোরাকারবারিদের প্রায় ৫০ জন সিন্ডিকেটের নামের তালিকা এসেছে আমাদের হাতে। তবে স্থানীয় নিলাম ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে একাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে নিলাম নামের নাটকীয় নিলাম। এই সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন বিজিবি ও কাস্টমস এর কিছু অসাধু কর্মকর্তারা। অসৎ উপায়ে নিজেরাও লাভবান হচ্ছেন ও চোরাকারবারিদের লাভবান করছেন। এতে দেশ খুব হুমকির মুখে পরছেন বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চোরাই পথে আসা পণ্য বিজিবি আটক করলে পচনশীল পণ্য সাথে সাথে নিলাম করতে হবে। তবে অপচনশীল পণ্য কুমিল্লা রানীর বাজারের কাস্টমের গোডাউনে এনে নিলাম করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। বরণ, বিজিবি ও কাস্টমস কর্মকর্তারা তরিগরী করে বিজিবির ক্যাম্পের নিলাম দিয়ে দেন। এখানেই শেষ নয় অ-পচন শীল পণ্য সরকারি বন্ধের দিনেও নিলাম করা হয় যা করার কথা নয়। কেন না নিলামের টাকার ট্রেজারি ব্যাংকের চালান জমা দেওয়া সম্ভব হয় না।
বিজিবি ও কাস্টমস কর্মকর্তারা নিজস্ব সিন্ডিকেটদেরকে নিলাম পাওয়ানোর জন্য এই পন্থা অবলম্বন করে থাকেন বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুসারে, আজ শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ইং তারিখে বিজিবি ক্যাম্পে নিলামের কথা ছিলো বলে অনুসন্ধানে আমাদের টিম গিয়ে তার সত্যতা পেয়েছেন। তাই বিজিবি ও কাস্টমস কর্মকর্তারা নিলাম বাতিল করে দেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিলাম নিচ্ছেন অধিক দামে, যেমন, একটি গরুর মূল্য যদি ৫০ হাজার টাকা হয়, সেটাকে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিলাম ওঠানো হয়। প্রশ্ন উঠে যে, এসব নিলাম-এর ডাক কারা নেন? উত্তর যারা চোরাকারবারি তারাই এসব ডাক নিয়ে থাকেন। কেন না, তারা যদি ৫টি গরু নিলাম নেয়, সেই নিলামের ডাকের কাগজ দেখিয়ে তারা আরও ইন্ডিয়া থেকে চোরাই পথে আরও গরু নিয়ে আসেন, আর সেই যখন চোরাই গরু গুলি তাদের খামারে ঢুকিয়ে ফেলেন তখন ডাকের কাগজ দেখিয়ে তাদের চোরাই গরু গুলি বৈধ দেখান। এতে বিজিবি সক্রিয়ভাবে চোরাকারবারিদেরকে সহায়তা করে থাকেন। নিজেরাও চোরাকারবারিদের ব্যাবসা করে থাকেন বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। শুধু মাত্র গরুতেই সীমাবদ্ধ নয়, কসমেটিকস, চিনি, বাসমতি চাউল, মশল্লা, শাড়ি কাপড় ইত্যাদি।
এমন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ-এর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে সত্যতা পাওয়া গেছে। ২০২এ সাথে এমন এক সিন্ডিকেটের সাথে বনিবনা না হওয়াতে ৬০-বিজিবি এক ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেন, পরে উক্ত বিষয় ধামাচাপা দিলে পঙ্গু ব্যবসায়ীকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে রফাদফা করেন।
আমাদের অনুসন্ধান চলমান, ১| কাস্টমস ও বিজিবি মিলে কি ভাবে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন, ২| নিলামের সাথে চোরাকারবারিদের তালিকা, ৩| নিলামে কারা কোথায় সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন, ৪| নিলামের পর চোরাকারবারিরা কি ভাবে ব্যবসায় লাভবান হোন ও কাস্টমস ও বিজিবি কর্মকর্তারা লাভবান হোন, ৫| কালো টাকা কি ভাবে ইন্ডিয়া হয়ে বিভিন্ন দেশে প্রচার হচ্ছে ও কারা করছেন। এ সকল বিষয় নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলমান।