• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী ৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে স্বর্ণের দাম

অনলাইন ডেস্ক / ৭১ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে এ মূল্যবান ধাতুর দাম। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৫৮৫ ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে ৪৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের মান কমে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা তাদের সঞ্চিত অর্থ নিরাপদ রাখতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এই বাড়তি চাহিদাই মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামকে উসকে দিচ্ছে।

জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চীন, রাশিয়া, ভারত এবং তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ কিনছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা থেকে বাঁচতে এই দেশগুলো তাদের রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ধারায় চলতে থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৮০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা।

স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থা, সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয়। একই সঙ্গে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নতুন যুগের সম্পদ ব্যবস্থাপনাও স্বর্ণের চাহিদায় বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতে ক্রিপ্টোকারেন্সির পাশাপাশি স্বর্ণের ওপর ভরসা রাখছেন।

তবে স্বর্ণের এই ভবিষ্যৎ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ডয়চে ব্যাংকের অনেক বিশ্লেষক যেখানে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দাম দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন, সেখানে ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ওয়ার্টেমবার্গের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিবিদ ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো শক্তিশালী কোনো চালিকাশক্তি আপাতত নেই। যদিও ডিজেড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ অত্যন্ত ইতিবাচক। তারা আগামী ১২ মাসের মধ্যেই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে।

তাই স্বর্ণকে এখন কেবল অলঙ্কার বা বিলাসিতার পণ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এটি একটি কৌশলগত আর্থিক হাতিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অস্থির সময়ে সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে এবং ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে স্বর্ণের দাপট আপাতত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: ডিডব্লিউ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category