• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
চট্রগ্রামের পতেঙ্গায় আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রমসহ মাদক সেবনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে গাঙ্গিনাপাড়ে জনদুর্ভোগ কমাতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অভিযান “বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার পাঠাগার” কেন্দুয়া উপজেলায় একটি আলোর ঘর শহীদ জিয়া আন্তঃস্কুল ফুটবলে জয় পেয়েছে দক্ষিণ হালিশহর-বাকলিয়া-শেরশাহ কলোনী ও ছালেহ জহুর লালপুরে বাড়িতে ঢুকে হামলা, নারীকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ,, ওয়েবসাইটে নেই চিকিৎসকদের হালনাগাদ তথ্য: ভোগান্তিতে ব্রাহ্মণপাড়ার রোগীরা কুমিল্লায় এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণে ৯১ হাজার আবেদন, হতবাক কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির কিশোরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিএনপি নেতার উপর হামলা ঘিওরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে গাছের চারা রোপন করেন ছাত্রদল নেতা।

আগামী ৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে স্বর্ণের দাম

অনলাইন ডেস্ক / ৫২ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে এ মূল্যবান ধাতুর দাম। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৫৮৫ ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে ৪৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের মান কমে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা তাদের সঞ্চিত অর্থ নিরাপদ রাখতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এই বাড়তি চাহিদাই মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামকে উসকে দিচ্ছে।

জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চীন, রাশিয়া, ভারত এবং তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ কিনছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা থেকে বাঁচতে এই দেশগুলো তাদের রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ধারায় চলতে থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৮০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা।

স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থা, সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয়। একই সঙ্গে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নতুন যুগের সম্পদ ব্যবস্থাপনাও স্বর্ণের চাহিদায় বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতে ক্রিপ্টোকারেন্সির পাশাপাশি স্বর্ণের ওপর ভরসা রাখছেন।

তবে স্বর্ণের এই ভবিষ্যৎ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ডয়চে ব্যাংকের অনেক বিশ্লেষক যেখানে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দাম দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন, সেখানে ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ওয়ার্টেমবার্গের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিবিদ ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো শক্তিশালী কোনো চালিকাশক্তি আপাতত নেই। যদিও ডিজেড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ অত্যন্ত ইতিবাচক। তারা আগামী ১২ মাসের মধ্যেই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে।

তাই স্বর্ণকে এখন কেবল অলঙ্কার বা বিলাসিতার পণ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এটি একটি কৌশলগত আর্থিক হাতিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অস্থির সময়ে সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে এবং ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে স্বর্ণের দাপট আপাতত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: ডিডব্লিউ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category