সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের বেতন-ভাতা সময়মতো প্রদানে কঠোর নিয়ম চালু করেছে দেশটির মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। নিয়োগকর্তাদের জন্য “ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম” (ডাব্লিউপিএস) নামক একটি ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে কর্মীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।
এই সিস্টেমে কর্মী ও নিয়োগকর্তার তথ্য সংরক্ষণ করা হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে কি না, তা মনিটর করে সৌদির শ্রম মন্ত্রণালয়। বেতন প্রদানে ব্যর্থ হলে নিয়োগকর্তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪২৫ জন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, যারা দেশটির শ্রমবাজারে বিভিন্ন খাতে অবদান রেখে চলেছেন।
সৌদির মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, “বাংলাদেশি কর্মীরা আমাদের শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সৌদির ২০২১ সালের “লেবার রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ” (এলআরআই) শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এই সংস্কারের আওতায় প্রবাসী কর্মীদের অধিকার আরও সুসংহত করা হয়েছে।
ডাব্লিউপিএসের মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের আর্থিক অধিকার সুরক্ষিত করা হচ্ছে। চুক্তি ভঙ্গকারী নিয়োগকর্তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে সৌদি মুখপাত্র জানান, “তারা আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে সমৃদ্ধ করেছে। এই শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং তাদের ক্যারিয়ার বিকাশে আমাদের প্রতিশ্রুতি অবিচল।”
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের সুরক্ষা ও আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।