• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান বিশ্ববাজারে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল তেল হুথি হামলায় সম্পৃক্ততার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পাবনার ফরিদপুরে সুরাইয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন; দুই আসামি গ্রেফতার

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি / / ৬৩ Time View
Update : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

পাবনার ফরিদপুরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সুরাইয়া খাতুনের (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত দুই জন কে গ্রেফতার করে ফরিদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে পাবনা ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশ জানায়, সুরাইয়া সবুজ নামের এক কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিল এবং পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সংসার শুরু করতে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সে দুশ্চিন্তায় ছিল। এ সুযোগে সুরাইয়ার আপন চাচাতো বোন ডালিয়া ও তার স্বামী আব্দুল লতিফ পরিকল্পনা করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে লতিফ কাজ করতে না পারায় তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অভাব চলছিল। তারা সুরাইয়ার দাদা-দাদির কাছ থেকে টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে তারা সুরাইয়া ও তার প্রেমিকের বিয়ে এবং নিজেদের সংসারের অভাব মেটানোর স্বার্থে একটি সাজানো অপহরণের নাটক করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ জানুয়ারি ডালিয়া বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সুরাইয়াকে নিয়ে কাজিটোল এলাকায় যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল লতিফ। পরে তিনজন মিলে জন্তিহার গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কৌশলে সুরাইয়াকে একাধিক ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে গভীর রাতে তারা ওই ঘরে গিয়ে দেখে সুরাইয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে এবং সে মারা গেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তারা মৃতদেহের হাত-পা বেঁধে রাতের মধ্যে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে অপহরণের ঘটনা সত্য প্রমাণের জন্য ১৭ জানুয়ারি লতিফের ব্যবহৃত একটি সিমকার্ড থেকে সুরাইয়ার দাদার কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে পাবনা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই জেলা গোয়েন্দা শাখা নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামি আব্দুল লতিফ (জন্তিহার, ফরিদপুর) এবং ডালিয়া (ভিকটিমের চাচাতো বোন ও লতিফের স্ত্রী)–কে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পাবনা জেলা পুলিশ দ্রুত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনেছে। জেলা পুলিশ জানায়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category