কুমিল্লায় একটি মাদরাসার পুরাতন দেয়াল ভাঙার সময় হঠাৎ ধসে পড়ে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর কাশিফুল উলুম নামে একটি ক্বাওমী মাদরাসায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই মাদরাসার মুহতামীম আনিছুর রহমান ও আবদুল আজিজ পালিয়ে গেছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিক্ষার্থী মো.সিফাত রহমান (১২)। সে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের মাসুম রহমানের ছেলে। সিফাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোর করে মাদরাসার ভেতরের একটি পুরাতন দেয়াল ভাঙার কাজ করাচ্ছিলেন মাদরাসার মুহতামিম। ভাঙার সময় হঠাৎ দেয়ালের একটি অংশ সিফাতের ওপর চাপা পড়ে। পরে ভাঙা দেয়ালের অংশ সরিয়ে তাকে উদ্ধার করা হলে তাকে মৃত অবস্থ্য়া পাওয়া যায়।
ছোট আলমপুরের প্রত্যক্ষদর্শী মো.খোরশেদ আলম বলেন, মুহতামীম আনিছুর রহমান ও আবদুল আজীজ দুই ভাই মাদরাসা পরিচালনা করছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় মাদরাসার মুহতামিম আজিজ ও আনিছুর রহমান জোর করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুরাতন একটি দেয়াল ভাঙার কাজ করান। কয়েকজন শিক্ষার্থী এ কাজ করতে না চাইলেও তাদের দিয়েও জোর করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করায়। দেয়াল ভাঙার সময় দেয়ালের একটি বড় অংশ সিফাতের ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মুত্যৃ হয়। এসময় অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেয়ালের ভাঙা অংশ সরিয়ে সিফাতকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান রাত ১০ টার দিকে বলেন, ঘটনার পর পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, তবে এর আগেই মাদরাসার মুহতামীম আবদুল আজীজ ও আনিছুর রহমান পালিয়ে যায়। নিহত সিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিফাতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তার স্বজনরা থানায় মামলা করলে আইনী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।