বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, শেকড়ের টান এবং সংস্কৃতির গভীর আবেগকে ধারণ করে ‘সুর-ছন্দে বৈশাখী আনন্দধারা’ শিরোনামে এক ব্যতিক্রমী বৈশাখী আড্ডার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স শাখা।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন সংগঠনের সদস্যরা। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে সদস্যরা গোল হয়ে বসে সমস্বরে পরিবেশন করেন লোকজ গান ও বৈশাখের কবিতা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য আবহ—যেখানে মিশে ছিল বাংলার গ্রামীণ সুর, ঐতিহ্যের আবেশ এবং তরুণদের উচ্ছ্বাস।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী স্মৃতিচারণ পর্ব। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করে নেন, যা আড্ডাকে আরও প্রাণবন্ত ও আবেগঘন করে তোলে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত সকলের হাতে তুলে দেওয়া হয় নান্দনিক বৈশাখী কার্ড ও আন্তরিক শুভেচ্ছা চিঠি। ছোট্ট এই উপহারগুলো সবার কাছে ভালোবাসা ও বন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশন করা হয় হরেক পদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার, যা উৎসবের আনন্দকে করে তোলে পরিপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের উৎসব। জাঁকজমকের চেয়েও সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই আয়োজনের সার্থকতা।”
সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিক বলেন, “উৎসব মানেই জাঁকজমক নয়; বরং শেকড়ের সঙ্গে আত্মিক সংযোগ। এই আড্ডার মাধ্যমে আমরা সেই বন্ধন ও সাংস্কৃতিক সংহতিকেই উদযাপন করতে চেয়েছি, যা আমাদের আগামীর মানবিক পথচলায় প্রেরণা জোগাবে।”
বৈশাখী আয়োজনে অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘের শুভার্থী বন্ধু শঞ্চিতা সেতু, লামিয়া সানজিদা, শাহানাজ পারভীন, তানিয়া তানজি, রাজমিন সুলতানা, সোনিয়া, সীমা রানী সাহা, রুকাইয়া জামিন নাজাত, জেবা, নুসাঈবা সিদ্দিক, জান্নাত আরা লিকু, অনামিকা রানী পাল, লিখা, শাহানাজ, সালমা, তাসনিম, ফাহমিদা আজ্যুম, আফরিন নাহার নিঝু, বিপাশা আক্তার বিথী, রিয়া প্রমুখ।তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সৃজনশীল উপস্থাপনা ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।