গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে ও একজনকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন শারমিন আক্তার, তার তিন মেয়ে—মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। গত শনিবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০)। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ফোরকানের আচরণ নিয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির একজন বলেন, সেদিন তার বাড়িতে মেহমান ছিল এবং দোকান থেকে তিনি পোলাওয়ের চাল এবং কিশমিশ কেনেন। আমি লোকজনের কাছে শুনেছি, শুক্রবার রাতে ফোরকান দীর্ঘক্ষণ বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন এবং মোবাইলে কথা বলেছিলেন। এ সময় তার কোলে ছোট মেয়ে ফারিয়া এবং হাত ধরা ছিল মেজ মেয়ে মারিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রতিবেশী বলেন, রাত ৮টার দিকে ফোরকান বাড়িতে আসেন। এ সময় তার প্রাইভেটকার ছাড়াও আরও একটি প্রাইভেট কার আসে। ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন লোক নামেন।
এক মুদিদোকানি বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফোরকান ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে দোকানে আসেন। এসেই জিজ্ঞাসা করেন, ভাবি কিশমিশ আছে? পরে ২টা চিপস নেন মেয়ের জন্য। এ সময় তার হাতে কাপড়ের একটা ব্যাগ ছিল। বাড়িতে এলেই ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। তিনি তার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করতে পারেন, এটা বিশ্বাস হচ্ছে না।
বাড়ির পাশের আরেক মুদিদোকানি বলেন, অবিশ্বাসের মতোই লাগে। বাবা তার সন্তানদের কীভাবে মারে? শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোরকানকে সড়ক দিয়ে হাঁটতে দেখেছি। তখন তার কোলে ছোট মেয়ে এবং সঙ্গে মেজ মেয়ে মারিয়াও ছিল।
স্থানীয় এক নারী বলেন, শারমিন আক্তার দোষ বা ভুল করে থাকলে তাকে ছেড়ে (ডিভোর্স) দিত কিন্তু তার মেয়ে এবং শ্যালকের কী দোষ ছিল? বাবা হয়ে মেয়েদের এভাবে হত্যা করতে পারে না। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।