দীর্ঘ তিন দশকের প্রবাসজীবনের এক অনন্য পরিণতি হিসেবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দুই পরিবারের মধ্যে গড়ে উঠেছে আত্মীয়তার নতুন বন্ধন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন মালদ্বীপের এক যুবক, যা দুই দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, জীবিকার সন্ধানে প্রায় তিন দশক আগে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া গ্রাম থেকে মালদ্বীপে পাড়ি জমান মো. নুরুজ্জামান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে তিনি মালদ্বীপের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন।
২০০৩ সালে তিনি মালদ্বীপের নাগরিক আজিজ আব্দুল্লাহর সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় একমাত্র কন্যা আয়েশাত নূরানুর। মালদ্বীপেই তার বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও কর্মজীবনের পথচলা।
কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় নূরানুরের পরিচয় হয় মালদ্বীপের সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা মায়জু নিজামের সঙ্গে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধ, আন্তরিকতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের সম্পর্ক পরিণতি লাভ করে বিবাহবন্ধনে।
এই বিয়ে শুধু দুটি মানুষের মিলন নয়; বরং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দুই সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পারিবারিক মূল্যবোধের এক অপূর্ব সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বজনদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে নবদম্পতির দাম্পত্য জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উভয় পরিবারের সদস্যরা।
এছাড়া তারা মনে করেন, এই আত্মীয়তার বন্ধন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং মানবিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।