দুনিয়া মানুষের চাওয়া-পাওয়ার সবকিছু একসঙ্গে পূরণ করে না। জীবনের পথে কোনো কিছু অর্জন করতে গেলে অনেক সময় অন্য কোনো কিছু হারাতে হয়। কোনো স্বপ্ন পূরণ হলে তার সঙ্গে নতুন কোনো দায়িত্ব, চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তা এসে দাঁড়ায়। এটাই দুনিয়ার বাস্তবতা। মানুষ জীবনে অনেক কিছু চায়। কেউ সাফল্য চায়, কেউ ভালোবাসা, কেউ অর্থ-সম্পদ, কেউ সম্মান, আবার কেউ নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। একটি অর্জনের সঙ্গে অনেক সময় অন্য একটি অপূর্ণতা থেকে যায়। কখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে, কিন্তু সেই সাফল্যের সঙ্গে বাড়ে দায়িত্ব ও চাপ। কখনো স্বপ্ন পূরণ হয়, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে হারিয়ে যায় প্রিয় কোনো সময়, সম্পর্ক কিংবা সুযোগ। আবার কখনো মানুষ যা হারায়, তার বিনিময়ে জীবনে নতুন কোনো সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়।
তাই দুনিয়ার জীবনে সবকিছু নিখুঁত হবে, এমন প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। এখানে পাওয়া ও হারানো, আনন্দ ও কষ্ট, সাফল্য ও ব্যর্থতা পাশাপাশি চলবে। মানুষের জীবনে যত অর্জনই আসুক, কোনো না কোনো অপূর্ণতা থেকেই যাবে।এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জীবনের পাওয়া বিষয়গুলোর জন্য কৃতজ্ঞ থাকা এবং হারানো বিষয়গুলো থেকে শিক্ষা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুনিয়া স্থায়ী পরিপূর্ণতার জায়গা নয়। এখানে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। পরিপূর্ণতার প্রকৃত ঠিকানা দুনিয়া নয়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, পরিপূর্ণতার ঠিকানা একমাত্র জান্নাত। সেখানে মানুষের জন্য থাকবে পূর্ণ শান্তি, আনন্দ ও পরিতৃপ্তি। তাই দুনিয়ায় সবকিছু একসঙ্গে না পাওয়ার কারণে হতাশ না হয়ে জীবনের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। যা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞতা, যা হারিয়েছি তার জন্য ধৈর্য এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী থাকাই হতে পারে জীবনের অন্যতম শিক্ষা।
লেখা: সাংবাদিক, মোঃ শাহরিয়া সিকদার