নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির বিশেষ গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ (পিংক বাস) চালু করা হয়েছে। নগরে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। এই সার্ভিসের আওতায় চলাচলকারী বাসের চালক ও হেলপার উভয় দায়িত্বেই থাকছেন নারীরা।
দুটি বাস দিয়ে মঙ্গলবার এই সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়েছে। যা কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকা থেকে নগরের ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের গণপরিবহনে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ তৈরি করাই এই বিশেষ বাস সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাসের চালক ও হেলপার হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়ায় পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানেরও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী গণপরিবহনে চলাচল করেন। ভিড়, আসন সংকট ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নারী চালক ও হেলপার পরিচালিত পৃথক এই বাস সার্ভিস চালুর ফলে এসব সমস্যা কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, “এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। এ বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করব, সরকার যে উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি শুরু করেছে। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। সরকারের অঙ্গীকার সরকার বাস্তবায়ন করছে।”
নতুন এই সার্ভিসের আওতায় দুটি বাস কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে নগরের ফ্রি পোর্ট ও পতেঙ্গা এলাকায় যাবে। পথে নির্ধারিত ১২টি স্টপেজে বাস দুটি থামবে, যাতে রুটের বিভিন্ন এলাকার নারী যাত্রীরা নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে সহজে বাসে উঠতে ও নামতে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা।