বৃহস্পতিবার লেনদেনের একপর্যায়ে সূচকটি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। এতে প্রযুক্তিগতভাবে ‘বিয়ার মার্কেট’ বা দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী বাজারের পর্যায়ে প্রবেশ করে সূচকটি। একই দিনে হংকংয়ে তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শেয়ারবাজারে এই পতনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত আশাবাদে ভাটা, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগব্যয়ের দুর্বলতা এবং সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের নতুন প্রণোদনা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা।
এ ছাড়া কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির গতি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। এসব কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এআই নিয়ে আশাবাদে ভাটা
চীনের প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পকে শক্তিশালী করতে বেইজিংয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ চলতি বছরের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি করেছিল। এর প্রভাবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এআই কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আয় ও মুনাফার সঙ্গে বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, সেই সাফল্য কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো কতটা আয় ও মুনাফা করতে পারছে, সেদিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রত্যাশা দ্রুত বাড়লেও মুনাফা সেই অনুপাতে না বাড়লে শেয়ারের মূল্য সংশোধনের মুখে পড়তে পারে।
এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক এই প্রবণতার প্রভাবের পাশাপাশি চীনের শেয়ারবাজারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও।
এ পরিস্থিতিতে দরপতন দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজার থেকে নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে তাদের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনাও চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।







