সময় বদলেছে, বদলে গেছে প্রযুক্তির রূপ। অ্যানালগ যুগের জায়গা দখল করেছে ডিজিটাল ডিভাইস। কিন্তু প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগেও হারিয়ে যাওয়া অতীতকে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাবুর রহমান চৌধুরী। তিনি জাতীয় সাপ্তাহিক ক্রাইম পেট্রোল বিডি-এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক। তাঁর কর্মক্ষেত্রের অফিস কক্ষে প্রবেশ করলেই যে কারো চোখ আটকে যাবে এক টুকরো অতীতে। সেখানে সাজানো রয়েছে কয়েক দশক আগের নানা ব্যবহার্য সামগ্রী, যা স্রেফ বস্তু নয়, বরং ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।
সরেজমিনে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, একটি সুসজ্জিত শোকেসে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ষাট, সত্তর ও আশি দশকের নানা স্মৃতিচিহ্ন। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী হারিকেন, জোরালো আলোর হেজাক লাইট এবং আদি আমলের মেটালের তৈরি টর্চ লাইট। এক সময় রাতের অন্ধকার দূর করার একমাত্র ভরসা ছিল এই সামগ্রীগুলো।
বিনোদন ও যোগাযোগের বিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে শোভা পাচ্ছে ৪৫ বছরের পুরনো একটি এন্টেনা ও বোতামযুক্ত সিআরটি টেলিভিশন, জাপানি প্রযুক্তির ক্যাসেট প্লেয়ার, ভিসিডি প্লেয়ার এবং আদি আমলের একটি হ্যান্ডি ক্যামেরা। এছাড়া অ্যান্টিক ডিজাইনের একটি বিদেশি পুশ-বাটন টেলিফোন সেট এবং এক কোণে রাখা বিদ্যুৎ পরিমাপের পুরনো অ্যানালগ মিটারটি দর্শনার্থীদের অনায়াসেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো দিনে। সংগ্রহের মাঝে আরও রয়েছে স্যারের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক রোলেক্স, সিকু ফাইব, সিটিজেন,ক্যামি দামী ব্রান্ডের হাতঘড়ি এবং বিভিন্ন সময়ে পাওয়া সম্মাননা স্মারক ও মেডেল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সংগ্রহশালার প্রতিটি জিনিসের পেছনে জড়িয়ে আছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাবুর রহমান চৌধুরী স্যারের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি। যান্ত্রিক এই ব্যস্ত শহরের বুকেও তিনি প্রতিদিন অত্যন্ত যত্ন সহকারে নিজ হাতে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার করেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই স্মারকগুলো সংরক্ষণ করার মাঝে তিনি এক আত্মিক শান্তি ও পরম সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
নতুন প্রজন্মের কাছে এই সামগ্রীগুলো যেমন কৌতূহল উদ্দীপক, তেমনি তা এক দশকের প্রযুক্তিগত ও সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাত ধরে এভাবে হারিয়ে যাওয়া অতীত ও ঐতিহ্য বেঁচে থাকার এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয় এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।