• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
দেবিদ্বারে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় যুবশক্তি নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা: উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি প্রধান আসামির ইপিজেড থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ঘোষণা: সভাপতি – আশরাফ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান সিংগাইরে টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি উৎপাদনের অভিযোগে জরিমানা প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় ফেরা বিলম্বিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট ইসি এইচএসসির ফল নিয়ে নতুন তথ্য দিল শিক্ষা বোর্ড নভেম্বরের জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন শিবা শানু ভারতে নতুন নীতি-আন্দোলনে জড়িতদের মিলবে না সরকারি চাকরি! অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, যেসব নিয়ম মানতে হবে

অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, যেসব নিয়ম মানতে হবে

অনলাইন ডেস্ক / ২৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না। নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন ফি ও চলাচলের রুট।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নামে জারি করা বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন অথবা নির্দিষ্ট জোনে এসব যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি কত?

বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে এসব যান। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।

জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো নিষিদ্ধ।

চালকদের সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য যানকে অতিক্রম এবং লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

ই-রিকশায় যাত্রী ও হর্ন ব্যবহারে বিধিনিষেধ

ই-রিকশার আকার অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। এ ছাড়া ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-রিকশার নিবন্ধন ফি কত?

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা।

চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।

সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি ১ হাজার টাকা।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ ও নির্ধারিত ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে।

আবেদন যাচাই-বাছাই করে সব শর্ত পূরণ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। নিবন্ধন নম্বর গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর, একজনের সর্বোচ্চ পাঁচটি

ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।

তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করবে।

পুরোনো ই-রিকশাকেও নিতে হবে অনুমোদন

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনে কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ফিটনেস সনদ ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। নিবন্ধনের তারিখ থেকে ই-রিকশার ব্যবহারযোগ্য অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। পর্যায়ক্রমে এসব যানকে বিমার আওতায় আনারও বিধান রাখা হয়েছে।

জোনভিত্তিক রুট, নির্দিষ্ট রং ও পার্কিং

ই-রিকশার চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ। জোনভিত্তিক রুট চালু হলে এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। প্রতিটি জোনে ই-রিকশার সংখ্যা ও নির্দিষ্ট রংও নির্ধারণ করা হবে।

পার্কিংয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় জায়গা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্দিষ্ট গ্যারেজে। এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা বা পোড়ানো নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোও যাবে না।

যেসব অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ সড়কে চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে এবং পুলিশকে জানাতে হবে।

অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ই-রিকশার বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এ ছাড়া ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটি বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category