তাইওয়ানের বিমানসংস্থাগুলোর ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে পাকিস্তান। চীনের ‘এক-চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানের বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করেছে ইসলামাবাদ। এর ফলে তাইওয়ানের দুই প্রধান বিমানসংস্থা চায়না এয়ারলাইন্স ও ইভা এয়ার আবারও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে।
গত বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ব্লুমবার্গ ও ডনের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, দুই বিমানসংস্থাকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর আগে তাইওয়ানের বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে চীনের ‘এক-চীন’ নীতি অনুসরণ করে এবং কেবল মূল ভূখণ্ড চীনের বিমানসংস্থাগুলোকে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
চীনের ‘এক-চীন’ নীতির মূল বক্তব্য হলো, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব সরকার ও প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের অবস্থানের কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বীপটির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর থেকে তাইওয়ানের বিমানগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে। এতে বিমান চলাচলের রুট পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তাইওয়ান। তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইপে ইসলামাবাদের পদক্ষেপকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশসীমাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলে তারা। ইসলামাবাদ তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করছে এবং আন্তর্জাতিক আকাশসীমাকে রাজনৈতিকীকরণ ও অস্ত্রায়ন করছে বলেও অভিযোগ তোলে তাইপে।
তাইওয়ানের বিমানসংস্থাগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তে ইসলামাবাদের আগের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে সিদ্ধান্তটির পেছনে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানকে ঘিরে বেইজিংয়ের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এমন পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের বিমানসংস্থাগুলোকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: আরটি