• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একদিনে চার অভিযান, ভারতীয় পণ্য ও মাদকসহ গ্রেপ্তার-৩ ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ বুড়িচংয়ে ফসলি জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন লন্ডনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবর্ধনা ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ সৎ সংঘের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও শুভ উদ্বোধন ছাত্রত্ব নেই, তাও হোস্টেল দখলে ছাত্রদল নেতারা: সিট বাণিজ্যের অভিযোগ! কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার রহস্য উদঘাটন, ২ আসামি গ্রেফতার শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে? ট্রেনে কাটা পড়া নারীর ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ইরানের সক্ষমতা দেখে কোনো শত্রু হামলার সাহস পাবে না: পেজেশকিয়ান

রংপুরে সাংবাদিক লাঞ্ছনা: ভ্যাট বিভাগের নীরবতার জবাবদিহি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো | / ৭৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

রংপুরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

একই সঙ্গে ভ্যাট প্রশাসনের জবাবদিহির অভাব নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে)-এর সভাপতি ও দৈনিক দিনকাল-এর ব্যুরো প্রধান সালেকুজ্জামান সালেককে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এক কমিশনার অসৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে লাঞ্ছিত করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্ন করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই আরপিইউজে নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এদিকে, রংপুরের পেশাদার সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অনেকেই দাবি করেন, ভ্যাট প্রশাসনের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—ভ্যাট নিবন্ধনে হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ, প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা প্রদান, অডিট কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব, ইএফডি মেশিন ব্যবহারে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ। এছাড়া ভ্যাট ফাঁকির মামলার কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের অভিযোগ, ভ্যাট বিভাগের একটি অংশ নিজেদের স্বার্থে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করছে। বাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পণ্য ছড়িয়ে পড়ার পেছনেও তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে কয়েকজন কাস্টম কর্মকর্তাকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কথা বলা হয়, সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হচ্ছে কেন? এই নীরবতা কি শুধুই প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো অনিয়ম?

আরপিইউজে নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সাংবাদিক সমাজ পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category